March 9, 2026, 11:05 am
স্টাফ রিপোর্টার ॥
চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাটা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও রমজান মাস উপলক্ষে আগেভাগেই বাজারে উঠেছে তরমুজ। রোজাদারদের কাছে চাহিদা থাকায় অপুষ্ট এসব তরমুজ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। বাম্পার ফলন সত্ত্বেও কৃষক, ফড়িয়া ও বেপারীদের একাধিক হাত ঘুরে খুচরা বাজারে আসায় তরমুজ কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ ক্রেতাদের।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভোলার চরফ্যাসনে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ কৃষক পরিবারের জীবনযাত্রায়। ফলে তরমুজ মৌসুম ঘিরে গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার চর কলমী, মুজিবনগর, নজরুল নগর, নীলকমল, নুরাবাদ এবং আবু বকরপুর, আহম্মদপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। ৫০টি স্কিমের আওতায় ১২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে গ্লোরি, হাইব্রিড, ড্রাগন, থাই সুপার, সাইকিং, বেঙ্গল কিং, গ্রেড ওয়ান, বিগ ফ্যামিলি ও আনন্দ প্রজাতির তরমুজ আবাদ করেছেন কৃষক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সার, কীটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে।সরেজমিন দেখা যায়, চরফ্যাসন উপজেলায় তিন প্রজাতির তরমুজ চাষ বেশি হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড, ড্রাগন প্রজাতির তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় এই দুই প্রজাতির তরমুজ চাষে ঝুঁকেছেন চাষিরা। রমজানে বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলো থেকে পাইকাররা আগাম জাতের তরমুজ সংগ্রহের জন্য কৃষকের ক্ষেতে ক্ষেতে ছুটছেন। তারা প্রতি কানি (১৬০ শতাংশ) আগাম তরমুজ কিনছেন ছয় থেকে সাত লাখ টাকায়। লাভের বৃহৎ অংশ হাতিয়ে নিচ্ছেন ফড়িয়া ও পাইকাররা। কৃষকের হাত থেকে অল্প দামে কিনে মোকামে আর খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছেন তারা।মুজিবনগরের কৃষক আমির হোসেন জানান, মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়ে এ বছর তিনি পাঁচ কানি (১০ একর) জমিতে আগাম তরমুজ আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তরমুজ আবাদে তাঁর খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। তাঁর জমিতে প্রায় সাত হাজার ৫০০ বড় আকারের তরমুজ রয়েছে। রমজানের মধ্যে বিক্রি করলে তিনি ১৬ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী।চরকলমী ইউনিয়নের মেঘভাষান চরের তরমুজ চাষি সাইদুলুল্লাহ মিয়া জানান, এ বছর তিনি দুই কানি জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। জমি ইজারা ও চাষাবাদ খরচ মিলিয়ে তাঁর খরচ হয়েছে তিন লাখ টাকা। কিন্তু আগাম তরমুজের ভালো হওয়ায় ইতোমধ্যে সাড়ে ছয় লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। চট্টগ্রামের বেপারী মো. মোনতাজ উদ্দিন জানান, রমজান মাসকে ঘিরে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকদের কাছ থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে তরমুজ। এক কানি জমিতে তরমুজ আবাদ হয় দুই হাজারেরও বেশি। এই তরমুজ তারা কৃষকদের কাছ থেকে কিনছেন পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকায়। এরসঙ্গে যোগ হয় পরিবহন, ফড়িয়ার পেছনে ব্যয় (প্রতি ফড়িয়া ১০ হাজার), শ্রমিক খরচ এবং প্রত্যেক ঘাটে চাঁদার টাকা। এতে দুই হাজার তরমুজ চট্টগামে পৌঁছাতে আরও অতিরিক্ত ৪০ থেকে ৫৪ হাজার টাকা খরচ হয়।
চরফ্যাসন সদর বাজারে খুরচা বিক্রেতা সাহেব আলী জানান, তিনি বেপারীদের থেকে প্রতি পিস বড় সাইজের তরমুজ ৩৫০-৪০০ টাকায় বেপারীদের কাছ থেকে কেনেন। কিন্তু শ্রমিক, পরিবহন ও বাজারের ইজারা খরচসহ প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়ছে প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা।
ক্রেতা সালেহ উদ্দিন জানান, খুচরা বাজার থেকে একটি বড় সাইজের তরমুজ কিনতে গুণতে হচ্ছে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তরমুজ এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, তরমুজের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ক্ষেত থেকেই প্রত্যাশিত দামে বিক্রি করতে পারছেন কৃষক। এতে কৃষকরা আগামীতে তরমুজ চাষকে ভাগ্য বদলের উপলক্ষ হিসেবে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a Reply