March 7, 2026, 10:51 am
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এখন সরাসরি দেশের জ্বালানি খাতে এসে লেগেছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে চলেছে। খবরে প্রকাশ-বিশ্ববাজারে তেলের সংকটের কারণে আমদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল ও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশমুখী তেলের জাহাজ নির্ধারিত সময়ে আসছে না। আমদানির শিডিউল ভেঙে পড়ায় ডিজেলের মজুত নেমে এসেছে মাত্র ৯ দিনের ঘরে। এ কারণে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলোকে চাহিদার ১০ শতাংশ কম ডিজেল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরও দেখুন আবহাওয়া পূর্বাভাস অ্যাপ সংবাদ বিশ্লেষণ টুল লাইফস্টাইল পণ্য বলা বাহুল্য, তেলের জাহাজ আসতে দেরি হওয়া এবং কাতার থেকে এলএনজি না পাওয়ার বিষয়টি শুধু সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি করবে না, এটি আমাদের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ভর্তুকির বোঝা বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতি হিসাবে চেপে বসবে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আমাদের শিল্প উৎপাদনকে স্থবির করে দিতে পারে। কৃষিতে সেচ মৌসুম চলাকালে ডিজেল বিক্রিতে রেশনিং করার নিয়মও সংকট আকারে সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো সচেতনতা ও মিতব্যয়িতা। সরকারের পক্ষ থেকে বিপণিবিতানে আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যক্তিগত যানবাহন কম ব্যবহারের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা সবারই অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করা কর্তব্য। একইসঙ্গে পেট্রোল পাম্পগুলো থেকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, কারণ এটি কৃত্রিম সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। পাশাপাশি, তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগে সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় হতে হবে। বিকল্প বাজার অনুসন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি ও তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির ওপর ভরসা করার পরিণামআমরা হাতেনাতে ভোগ করছি। এখন সময় এসেছে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। সাগরের নীল জলরাশি কিংবা স্থলভাগের ভূগর্ভস্থ সম্পদের সঠিক উত্তোলন নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা অসম্ভব। এর পাশাপাশি সৌর ও বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমাদের থমকে যেতে না হয়। তবে সবার আগে আমাদের সংযমী ব্যবহার ও দূরদর্শী নীতি বাস্তবায়নই পারে এ সংকট থেকে রক্ষা করতে।যদি আমরা সতর্ক না হই, তাহলে সামনের দিনগুলোতে শিল্প, কৃষি ও সাধারণ জীবনযাত্রা আরও কঠিন সংকটের মুখে পড়বে। সরকার, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষ-সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply