March 14, 2026, 12:39 pm

ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটুক

ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা শুরু জনআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটুক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতি এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হয়েছে । পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু।’ বস্তুত চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ অপেক্ষায় ছিল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর গঠিত হয় বিজয়ী বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার। মূলত তখন থেকেই সবাই ক্ষণ গুনছিলেন-কবে বসবে সংসদ অধিবেশন, কবে শুরু হবে বহুল কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ যাত্রা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অভিযাত্রা। দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে জনরায়ের যে প্রতিফলন ঘটেছে, তাকে অর্থবহ করে তোলাই হবে এ সংসদের প্রধান সার্থকতা। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাদের শপথপাঠ করিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গণ-অভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশা পূরণ এবং সংস্কার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ থাকবে এ সংসদের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে প্রথম অধিবেশনেই। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাশ করতে হবে, অন্যথায় সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে জনগণ একটি ব্যতিক্রম ধারার আইনসভা হিসাবে দেখতে আগ্রহী। অতীতে রাজনৈতিক তিক্ততা এবং সংসদকে অকার্যকর করে রাখার যে সংস্কৃতি আমরা দেখেছি, তা থেকে বেরিয়ে আসাই হবে এ সংসদের বড় চ্যালেঞ্জ। সংসদের ভেতরে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা এবং বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রের মূল সুরটিই হারিয়ে যায়। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিতর্ক ও মতপার্থক্য থাকবেই; কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে রূপ না নেয়। সরকারি ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকেই মনে রাখতে হবে, তারা ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাই আমাদের প্রত্যাশা, এই সংসদ কেবলই আইন পাশের কেন্দ্রে পরিণত না হয়ে প্রকৃত অর্থেই জনদুর্ভোগ ও জাতীয় সংকটের সমাধানস্থল হয়ে উঠবে। মনে রাখতে হবে, এ সংসদের সামনে রয়েছে পাহাড়সম দায়িত্ব। বিশেষ করে অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্নীতি রোধ এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে সংসদকে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদীয় কমিটিগুলোকে অধিকতর শক্তিশালী ও সক্রিয় করার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে জনগণের মধ্যে সংসদের প্রতি আস্থা ফিরে আসবে। আমরা আরও আশা করব, এই সংসদ একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ উপহার দেবে। নতুন সংসদের সব সদস্যের কাছে আমাদের একান্ত প্রত্যাশা-ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোকেই যেন তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুভ হোক।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © All rights reserved © 2024 DailyBiplobiBangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com