স্টাফ রিপোর্টার ॥
বরিশালে ১৩ পাম্পের বকেয়া ২ কোটির বেশি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি ইজারা নিয়ে চলছে বরিশালের ১৩টি পেট্রল পাম্প। তবে ২০১৫ সালে ইজারা মূল্য বাড়ানো নিয়ে মামলার জেরে বন্ধ আছে নবায়ন। এতে বকেয়া পড়েছে ২ কোটি টাকার বেশি। ১১ বছর ধরে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রতি বছর মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। বরিশালের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২০৭ শতাংশ জমিতে চালু আছে মোট ১৩টি পেট্রোল পাম্প। ২০০৪ সালে বিঘাপ্রতি বার্ষিক ৫ হাজার টাকায় ইজারা নেন পাম্প মালিকেরা। ২০১৫ সালে মৌজামূল্যের শতকরা ৭০ ভাগ হিসেবে ইজারা মূল্য পূণঃনির্ধারণ করলে মামলা করেন পাম্পমালিকরা। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় বন্ধ আছে ইজারা পরিশোধ। এর মধ্যে ২০২২ সালে ফের ইজারা মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সেই হিসেবে এসব পাম্পের কাছে
প্রতিবছর পাওনা প্রায় ২৩ লাখ টাকা। আর এ পর্যন্ত বকেয়া ২ কোটি টাকার বেশি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির মাধ্যমে ইজারা মূল্য নির্ধারণ হওয়ার আগ পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ সম্ভব নয়, বলছেন পাম্প মালিকেরা। বরিশাল পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সম্পাদক মো. শওকত আকবর বলেন, ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগ একতরফাভাবে ইজারা মূল্য নির্ধারন করেছে যেটা মানা সম্ভব না। এজন্যই আমরা আদালতের সরনাপন্ন হয়েছি। আদালত যে রায় দেবে আমরা সেটাই মানবো। আমরা অনেক দিন পর্যন্ত কতৃপক্ষের সাথে কথা চালাচালি করেছি। কিস্তু কর্তৃপক্ষ অনেকটা খামখেয়ালিপনায় রয়েছে।’ এদিকে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, নিয়মনীতি মেনেই ক্যাটাগরি অনুয়ায়ী ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পারিপার্শিক অবস্থা বিবেচনায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের ভূমি নীতিমালা বিভিন্ন সময় পুনঃ মূল্যায়ন হয় সরকারের উচু পর্যায় থেকে। এই টাকাই সড়কের উন্নয়নে ব্যাবহার করা হয়। সড়ক নির্মাণ সামগ্রির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। এই সামঞ্জস্য করার জন্যই ইজারা পুনঃনির্ধারনের মূল্য বেড়ে যায়। এখানে কোনো কিছুই চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। মামলা বিষয়ে আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে আমরাও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ এই ১৩টি পেট্রোল পাম্পের জমির বাজার মূল্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা। পাম্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও থেমে নেই। তাই আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা চান সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply