April 27, 2026, 5:21 am
মনিকা চৌধুরী, অতিথি প্রতিবেদক ॥
নগরজীবনের বিস্তার যত বাড়ছে, ততই সংকুচিত হচ্ছে প্রকৃতির নিজস্ব পরিসর। একসময় যেসব গাছপালা, জলাশয় আর খোলা মাঠ পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল,সেগুলোর জায়গা দখল করে নিয়েছে বহুতল ভবন, পাকা রাস্তা আর বাণিজ্যিক স্থাপনা। তবুও বিস্ময়করভাবে ইট-কংক্রিটের বরিশাল নগরে টিকে থাকার নতুন কৌশল রপ্ত করেছে পাখিগুলো।কোলাহল আর ইট-কংক্রিটের ভিড়ের মাঝেও তাদের টিকে থাকার এক অনন্য দৃশ্য চোখে পড়ে নগরীর ব্যস্ততম সদর রোডের বিবির পুকুরপাড় এলাকায়। পুকুরসংলগ্ন পুরোনো টিঅ্যান্ডটি ভবনের পাশের গাছগুলোয় বসবাস করছে হাজারো পাখি। শহরের ভেতরেই সকাল-সন্ধ্যায় শোনা যাচ্ছে পাখির কলতান, যা নগরবাসীর জন্য এক টুকরো স্বস্তির বার্তা।চারপাশে মানুষের কোলাহল, গাড়ির হর্ন আর ব্যস্ত নগরজীবনের শব্দের মধ্যেও এসব পাখি
নির্বিঘ্নে বাস করছে। প্রতিদিন ভোর হলেই গাছজুড়ে পাখির ডাক আর উড়ে বেড়ানোয় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সন্ধ্যায় ফের বাসায় ফেরা পাখিদের কিচিরমিচিরে যেন অন্যরকম প্রাণ পায় নগরী।পরিবেশপ্রেমী এলবার্ট রিপন বল্লভ বলেন, শহরের ভেতরে এমন পাখির আবাস থাকা পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য ইতিবাচক। পাখি বেঁচে থাকা মানেই প্রকৃতির অস্তিত্ব টিকে থাকা। তবে গাছ কাটা, শব্দদূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দৃশ্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সরকারি ব্রজমোহন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ড. তাহেরা সিদ্দিকা বলেন, দুটি কারণে পাখিগুলো এখানে বাসা বেঁধেছে। প্রথমত, ওরা এখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারের উৎস পাচ্ছে। এখানকার মানুষজন ভালো এবং তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পাখিগুলোর দিকে সময় দেয় না। তাদের বাসস্থান ভাঙা বা বিরক্ত করার মতো কাজ করে না বিধায় পাখিগুলো নিরাপদে এখানেই বছরের পর বছর থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবুও নগরায়ণের পাশাপাশি পাখিগুলো যেন নিরাপদে থাকতে পারে, এ বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
Leave a Reply