রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
বাবুগঞ্জের সুগন্ধা নদীর তীরে পাইরোলাইসিস কারখানা, ৭ দিনের মধ্যে বন্ধে বেলার আইনি নোটিশ বরিশালে নদীতে মিলল অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ বরিশালে বেডরুমের এসি থেকে উদ্ধার চারটি কালনাগিনী সাপ মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবারকেও ধ্বংস করে-গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সোহেল মনজুর নিখোঁজের দুই দিন পর সমুদ্রে মিলল ভাসমান জেলের লা*শ বোরহানউদ্দিনে অবৈধ ড্রেজার, বাল্কহেডসহ আটক ১৫ বরগুনা জেলেদের চাল আত্মসাত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে থাকবে চীন-শি জিনপিং বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে আলোচিত ‘মিন্নি’ কর্মচারীদের সন্তানদের বৃত্তি দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আবেদন যেভাবে

বাবুগঞ্জের সুগন্ধা নদীর তীরে পাইরোলাইসিস কারখানা, ৭ দিনের মধ্যে বন্ধে বেলার আইনি নোটিশ

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
সুগন্ধা নদীর তীরে ফসলি জমিতে ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ পাইরোলাইসিস কারখানা। গত মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের দোয়ারিকা এলাকায়। ছবি: বিপ্লবী বাংলাদেশ।

স্টাফ রিপোর্টার ‍॥

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে গড়ে ওঠা টায়ার ও প্লাস্টিক পাইরোলাইসিস কারখানা ‘পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট’ ৭ দিনের মধ্যে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

২৫ জুন বেলার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস হাসানুল বান্না পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, বরিশালের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ১০ জন কর্মকর্তার কাছে ‘নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ পাঠান।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পায়রা রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কারখানাটি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, বিষাক্ত গ্যাস ও শিল্পবর্জ্য স্থানীয় পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নদীর প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। পরিবেশগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের শিল্পকারখানা পরিচালনা পরিবেশ আইন ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান খোকন জানান, চার বছর আগে স্থানীয় কিছু কৃষকের জমি ভাড়া নিয়ে এই কারখানাটি স্থাপন করেন মিজানুর রহমান নামের বাকেরগঞ্জের এক ব্যক্তি। এলাকার লোকজন প্রথমে এর ক্ষতিকর দিক বুঝতে না পারায় ওই সময় কেউ বাধা দেয়নি। কিন্তু যখন বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে ওঠে, তখন এলাকার লোকজন কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে মালিকপক্ষকে অনুরোধ করলেও তিনি সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি। এরপর গত বছর কারখানাটির বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও দূষণের বিরুদ্ধে এলাকার বাসিন্দারা বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি।

কারখানার মালিক মো. মিজানুর রহমান বলেন, কারখানাটি পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে স্থানীয় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, এখানে তিনি ৫০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এর বাইরে টায়ার সংগ্রহসহ নানা কাজে আরও অন্তত ১০০টি পরিবার এই কারখানার আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

বেলার বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক লিঙ্কন বায়েন বলেন, সুগন্ধা নদীর তীরে এ ধরনের দূষণকারী শিল্পকারখানা দীর্ঘ মেয়াদে নদীর জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিবেশগত ক্ষতি আরও বাড়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ জন্য বেলার পক্ষ থেকে আইনগত নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে ৭ দিনের মধ্যে কারখানাটি বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় বেলার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com