শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
পাইলট কার্যক্রম: প্রথম ধাপে বিনামূল্যে জুতা পাবে ১ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাংলা-ইংরেজি রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ মার্কিন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, সিদ্ধান্ত জানাবে মধ্যস্থতাকারীদের ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটি ঘোষণা ভেঙে দেওয়া হলো পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা, মমতা অধ্যায়ের অবসান তরমুজে ইঁদুর মারার বিষেই মৃত্যু একই পরিবারের সেই ৪ জনের ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা ম্যারাডোনার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, জিয়ানিন্নার জবানবন্দিতে নেপথ্যের বিশ্বাসঘাতকতা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সেরা পাঁচে থাকতে চান শান্ত

ম্যারাডোনার নিঃসঙ্গ মৃত্যু, জিয়ানিন্নার জবানবন্দিতে নেপথ্যের বিশ্বাসঘাতকতা

প্রতিবেদকের নাম / ১ সময় দৃশ্য
আপডেট: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা মহাপ্রয়াণের পর অনেকটা সময় কেটে গেছে। কিন্তু তার মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট এখনো পুরোপুরি খোলেনি। সম্প্রতি ম্যারাডোনার প্রিয় কন্যা জিয়ানিন্না এক আবেগঘন ও বিস্ফোরক জবানবন্দিতে বাবার শেষ দিনগুলোর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। জিয়ানিন্নার মতে, তার বাবার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত সাত জনই কোনো না কোনোভাবে দায়ী। কেউ হয়তো বেশি অপরাধ করেছেন আর কেউ হয়তো কম।

তবে এই পুরো চিকিৎসক দলের ‘প্রধান কণ্ঠস্বর’ হিসেবে তিনি আঙুল তুলেছেন ম্যারাডোনার তৎকালীন ব্যক্তিগত চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকির দিকে। জিয়ানিন্না স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু ছিল না। বরং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অবহেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ডিয়েগোকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে দায়িত্বরত নার্সদের ভূমিকা নিয়ে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যাওয়ার আগে যে নার্সটির বাবাকে দেখে যাওয়ার কথা ছিল তিনি তা করেননি। আবার নতুন যে নার্সটি এসেছিলেন তিনিও ম্যারাডোনার কোনো খোঁজ নেননি।

তদন্তকারী দলের বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সুস্থ হওয়ার আশায় ভাড়া নেওয়া একটি বাড়ির বিছানায় ম্যারাডোনাকে একা ফেলে রাখা হয়েছিল। সেখানে টানা কয়েক ঘণ্টা অসহ্য যন্ত্রণার ছটফটানি আর আর্তনাদের পর নিভে যায় ফুটবলের এই রাজপুত্রের জীবন প্রদীপ। জিয়ানিন্না অভিযোগ করেছেন যে, চিকিৎসা দলের প্রতিটি সদস্যের অবস্থান ছিল অভিন্ন। তারা সবাই একটি বিশেষ পরিকল্পনা বা নির্দেশনা অনুসরণ করছিলেন। এখানে তিনি আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ার জন্য পোমারগোর নাম উল্লেখ করেছেন।

এই পোমারগো ছিলেন ম্যারাডোনার আইনজীবী ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোরলার ভগ্নিপতি। জিয়ানিন্নার দাবি অনুযায়ী পোমারগোই আড়াল থেকে সমস্ত সুতো টানছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। যখন ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হতে শুরু করে তখন চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচানোর চেয়ে নিজেদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিলেন।

 

আদালতে পেশ করা বিভিন্ন অডিও বার্তায় ফুটে উঠেছে সেই চরম অমানবিকতার চিত্র। পরিচর্যাকারীদের মধ্যে যখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল তখন তারা একে অপরকে বার্তা দিচ্ছিলেন। সেখানে শোনা গেছে, কেউ বলছেন যে, তিনি কেবল আইনি দিক থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ ম্যারাডোনার প্রাণ রক্ষার চেয়ে তাদের কাছে নিজেদের জেল-জরিমানা থেকে বাঁচানোটাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য।

জিয়ানিন্না বলেন যে, এই অভিযুক্তরা কখনোই কল্পনা করতে পারেননি যে, প্রসিকিউটরদের দপ্তর এত দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে, এত দ্রুত তল্লাশি চালানো হবে কিংবা তাদের ফোন জব্দ করা হবে। বাবার একাকী মৃত্যু আর চারপাশের মানুষের এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার বিচার চেয়ে জিয়ানিন্না এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com