April 26, 2026, 1:47 am
স্টাফ রিপোর্টার ॥
খালেদা জিয়া আবাসনে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিছিল, আগুনে ভ্যামাক (সব) শ্যাষ হইয়া গ্যাছে। মোগো আর কিছু থাকলো না, মোরা এহন যামু কই’-এভাবেই বিলাপ করছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের গোয়ালদী মুশুরিয়া আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা বিল্ব রানী।কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। শুধু বিল্ব রানীই নন, আবাসনের ভূমিহীন ১০টি পরিবারের সদস্যরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করছেন। অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত নিজেদের একমাত্র বসতঘরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন কেউ কেউ । পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই বের করতে পারেননি তারা। স্বাধনা রানীর স্বামী কানাই অধিকারী প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে সরকারি আবাসনের একটি ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। তার দুই মেয়ে বরিশালের একটি জুতার কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন। তাদের জমানো টাকায় কেনা আসবাবপত্রসহ সবকিছুই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামমোহনের ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে রামমোহন, সুধীর দাস, অশোক দাস, সাধন, গোলাপি, মনির হোসেন ও কালাম মোল্লাসহ কয়েকজনের ঘর পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া ১০টি ঘরের মধ্যে ২টিতে কেউ বসবাস করতেন না।খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ থাকায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই ১০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।বরিশাল দক্ষিণ ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টেশন অফিসার চন্দ্র শেখর গাইন জানান, খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে আশপাশের অন্যান্য ঘরগুলো রক্ষা পায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।৭০টি ঘরের এই আবাসনের মধ্যে ১০টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা উল হুসনা। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিক কম্বল ও খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করেছি। নিশ্চয়ই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে পাশে থাকবে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদেরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ৭০টি ভূমিহীন পরিবারকে এই আবাসনে পুনর্বাসন করা হয়। হঠাৎ এ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।
Leave a Reply