April 26, 2026, 6:31 am
স্টাফ রিপোর্ট ॥
অব্যাহত তাপ প্রবাহে পুড়ছে সমগ্র বরিশাল অঞ্চল। গত ১৫ দিনেও কোনো বৃষ্টির দেখা না মেলার মধ্যেই তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ওপরে উঠে যাচ্ছে। তবে এরই সাথে অব্যাহত বিদ্যুৎ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলছে। এখন দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই লোডসেড অব্যাহত রয়েছে।বরিশাল অঞ্চলে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার অর্ধেকের বেশী বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না গত দিন পনের যাবত। অব্যাহত এ বিদ্যুৎ সংকটে বোরো ধান ছাড়াও বিভিন্ন রবি ফসলের ক্ষতির ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।অব্যাহত এ তাপ প্রবাহে কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা মাঠে নামতেও পারছে না। এমনকি জেলেরা পর্যন্ত মাছ ধরতে নাও ভাসাতে সাহস পাচ্ছেন না । ফলে ইতোমধ্যে বাজারে মাছে সরবরাহ ঘাটতি শুরু হয়েছে।আবহাওয়া অফিস থেকে আরো দুদিন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে সোমবার বরিশালের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি সহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুক্রবারের মত শণি ও রবিবারেও তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধির কথা জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চ এ অঞ্চলে প্রথম বৃষ্টি হলেও সামগ্রিকভাবে মার্চ মাসে বৃষ্টিপাতের ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৯ ভাগ।এমনকি চলতি মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হলেও ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরে আকাশ থেকে আর পানি ঝরেনি। ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতাল গুলোতেও তাপ প্রবাহে অসুস্থ রোগীদের আগমন বাড়তে শুরু করেছে।অপরদিকে ফসলের মাঠে পানির বাড়তি চাহিদার মাঝে ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে নানা ফন্দি ফিকিরে কৃষকের দুশ্চিন্তাও বাড়ছে। বরিশাল অঞ্চলের মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধানের জমিতে সেচকাজে এবার যে প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্প চলমান রয়েছে, তার প্রায় ৭৪ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পে গড়ে দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও এখনো সরবরাহ নির্বিঘ্ন্ন নয়।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএসইর মতে, মাঠে থাকা প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধান থেকে এবার ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তুলতে হলে পুরো মে মাস যুড়ে জমিতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দেড় থেকে ২ ইঞ্চি পরিমাণ পানি রাখতে হবে। ফলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই।এমনকি লাগাতার এ তাপ প্রবাহে বরিশাল অঞ্চলের সুস্থ জনজীবনও ইতোমধ্যে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। হামের উপসর্গ নিয়েও শিশু রোগীদের আগমন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারে উন্নীত হয়েছে। যারমধ্যে ২১শ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। মারা গেছে ১৭টি শিশু। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরেছে ১,৭০৪ টি শিশু ।লাগাতার এ তাপপ্রবাহ নিয়ে কৃষক পরিবারগুলো এখন চরম দুশ্চিন্তায়। সাথে বৃষ্টিপাতের লাগাতার ঘটতি কৃষকদের দুশ্চিন্তার মাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনজীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলেছে।আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাসে, সোমবারের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার মত বরিশাল অঞ্চলের দু-এক জায়গায়ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়ার পাশাপাশি, এ সময় পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে।
Leave a Reply