পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন বহালগাছিয়া এলাকার আবুল বাশার ওরফে বাশারকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। মাদক ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা নয়টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকার স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ পৃথক নয়টি মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে থাকা ওয়ারেন্ট তামিল করতে সদর থানা পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। অবশেষে কৌশল অবলম্বন করে শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি চক্রের সঙ্গে আবুল বাশারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বা নিয়ন্ত্রণে মাদকের একটি সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সরকারি খাল দখল করে সেখানে মাদকসংশ্লিষ্ট লোকজনকে দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, একসময় অন্যের মুরগির খামারে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আবুল বাশার। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তার বিপুল সম্পদ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে মাদক ও ডাকাতির মামলাও রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতারে বিশেষভাবে তৎপর ছিল পুলিশ।
পটুয়াখালী সদর থানার এএসআই রিপন বলেন, ‘আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থানায় ওয়ারেন্ট তামিলের দায়িত্ব আমার ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। শুক্রবার তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল বাশার। গ্রেফতারের আগে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নামে কোনো মামলা নেই। আমি নিরপরাধ। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান (মনির) বলেন, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসহ মোট নয়টি পৃথক মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট রয়েছে। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।