April 22, 2026, 3:35 pm
স্টাফ রিপোর্টার ॥
প্রতিষ্ঠার ৬২ বছর পর প্রথমবারের মতো বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সেবা নির্বিঘ্ন করতে এ খাতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আগুনসহ যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল কর্মীদের দেওয়া হবে প্রশিক্ষণও। গত দু বছরে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন লেগেছে অন্তত ৯ বার। এর মধ্যে ৬টি ছিল ভয়াবহ। বার বার আগুনের ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ১৯৬৪ সালে এ হাসপাতালটি নির্মাণ করা হলেও, ছিল না অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা। পুরোনো ভবন ও অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা। ৩৬টি ওয়ার্ডের ৫২টি ইউনিটে প্রতিদিন ১ হাজার রোগীকে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও রোগী ও স্বজন মিলে থাকে কমপক্ষে তিন হাজার। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার রোগী বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয়। সম্প্রতি আগুনের পর, প্রথমবার এ খাতে ১০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর শুরু হয়েছে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপনের কাজ। বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল সহকারী পরিচালক ডা. এ কে এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ডিপার্টমেন্টের সাথে আমাদের একটি মিটিং হয়েছে। ওনারা আমাদের পর্যায়ক্রমে ট্রেনিং দেবেন। টেনিংয়ের পরে আমাদের একটা মহড়া হবে। মহড়ার পর আমরা এগুলো যথাযথ ব্যবহার করতে পারব।’ শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনির বলেন, ‘অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখা যায়। হাসপাতালের বড় একটা সমস্যা হচ্ছে ফোম। এটি খুবই দাহ্য পদার্থ, পেট্রোল, ডিজেলের চাইতেও বেশি। আমরা ফায়ার সার্ভিসের সাথে আলোচনা করেছি। কোথায় কোথায় এই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলো স্থাপন করা যায়।’ বরিশাল অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকরী পদক্ষেপের দাবি রোগী ও স্বজনদের।
Leave a Reply