রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
Logo

নেপালের বিপর্যয়ের পর জলবায়ু নিয়ে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ চান প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র

প্রতিবেদকের নাম / ৬ সময় দৃশ্য
আপডেট: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হিমালয় অঞ্চলে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘সাধারণ কোনো ঘটনা নয়’, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহধসে কাদাপানি ও পাথরের ঢল নামে গত সপ্তাহে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯৩৯ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। নেপাল সরকার বলছে, এ দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

গতকাল সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে আসা ঢল কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল ধসের কারণে এটি ঘটেছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ।’

ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলছে। এতে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলছে।

প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপাল মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিনির্ভর। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে দেশটির দায় খুব সামান্যই। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক পরিণতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে নেপালকে।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে। তাই এ অঞ্চলকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রায় তিন কোটি মানুষের দেশ নেপাল মূলত গ্রামীণ অর্থনীতিনির্ভর। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে দেশটির দায় খুব সামান্যই। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক পরিণতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে নেপালকে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেপালের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, সে বিষয় এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে।’

হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হিমবাহ পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ২৪ কোটি মানুষের পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী উপত্যকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে এ হিমবাহের পানির ওপর নির্ভরশীল।

২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর ছাদগুলো ধসে পড়ছে।’

রাসুয়ার ভোটেকোশি নদীতে আসা ঢল কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না। হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল ধসের কারণে এটি ঘটেছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম বড় দুর্যোগ।

বালেন্দ্র শাহ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী

গত বুধবারের এ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল বলেন, এটি ছিল ‘এ পার্বত্য পরিবেশগুলো কতটা ভঙ্গুর হতে পারে, তার এক বিধ্বংসী স্মারক’।

এমনিতেই নেপালের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে দেশটিকে এখন এ বিশাল দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com