রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন
Logo

বিরোধী জোটের লংমার্চ শুরু কর্মসূচির ওষুধ কাজ করতে শুরু করেছে: জামায়াত আমির

প্রতিবেদকের নাম / ১ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান , শাপলা চত্বর, মতিঝিল , ঢাকা , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: দীপু মালাকার

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচি ওষুধ ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।…আপনারা বলতেছেন এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ। ৫  সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকাছবি: দীপু মালাকার

লংমার্চের পথে কোনো বাধাকেই পরোয়া করা হবে না বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে। চলবে জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে বিরোধী জোট। এর সঙ্গে সপ্তম দফা যোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, লংমার্চের ছয় দফা দাবির সঙ্গে সপ্তম দফা যুক্ত হবে। কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না।

শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন , ‘গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই, কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে, কারেন্টের ভুতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলট-পালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে।’

সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘ওরে ছেড়ে দেন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি একদম ওলট–পালট করে দিয়েছিল।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য লংমার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বিভাগে যাত্রা শুরু করেছে। সরকার লংমার্চে বাধা দিতে চাইলে লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে ১১ দলের পক্ষ থেকে তাদের দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করেছে, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদেরও একই পরিণতি হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখনই না বুঝলে তাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যা প্রত্যেক স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিন যত যাচ্ছে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে সরকার। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতিকে দেওয়া ওয়াদা তারা ভঙ্গ করেছে। সংসদে ভুল স্বীকার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আপনারা গ্যাস-বিদ্যুৎ দেন না, কথাও বলতে দেন না। আপনাদের পরিণতি ভালো হবে না। দেশের মানুষ ক্ষমতায় বসাতে পারে, ক্ষমতা থেকে উৎখাতও করতে পারে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

পথসভা কোথায় কোথায়

শাপলা চত্বরে সমাবেশের পর সকাল নয়টায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডের ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথম পথসভা হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের পাশে দ্বিতীয় পথসভা হওয়ার কথা । এরপর জোহরের নামাজ ও খাবারের বিরতি থাকবে।

পরের পথসভাগুলো হবে বেলা আড়াইটায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে, সাড়ে তিনটায় ফেনীর মহিপালে এবং বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সন্ধ্যা সাতটায় লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা। তবে বিভিন্ন কারণে সময়সূচিতে কিছুটা তারতম্য হতে পারে বলে জোটের পক্ষ থেকে আগাম জানানো হয়েছে। লংমার্চের কারণে সম্ভাব্য জনদুর্ভোগের জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন জোটের নেতারা।

লংমার্চের সমাবেশ ও পথসভাগুলোতে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

চট্টগ্রামের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com