বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রতি দুজন মেয়ের একজনের বিয়ে ১৮ বছরের আগে !পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ইউনিসেফের মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মোসলমান !!!আগৈলঝাড়া একপাশে মসজিদ, অন্যপাশে পূজামণ্ডপ বিচ কার্নিভাল ও দুর্গাপূজা কুয়াকাটায় ৮০ শতাংশ হোটেলের কক্ষ বুক ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার এক মাসের মধ্যে পাথরঘাটা হাসপাতালের সংকট নিরসনের আশ্বাস চিফ হুইপের পিরোজপুরে ট্রলারডুবিতে শিশুর মৃত্যু, ৮ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি মায়ের!! দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর। মোদির বাসভবনের পাশের ঐতিহাসিক মসজিদ খালি করার নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে কী? পিরোজপুরে ট্রলার ডুবিতে মা নিখোঁজ, মেয়ের লাশ উদ্ধার

প্রতি দুজন মেয়ের একজনের বিয়ে ১৮ বছরের আগে !পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান ইউনিসেফের

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রতি দুজনের একজনের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় বলে তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতিসংঘের এই সংস্থা জানায়, অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগ এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের (৪৭ দশমিক ২ শতাংশ) বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ জানায়, রাসেল তিন দিনের সফরে ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এগুলো হলো– বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, অর্থাৎ তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

কড়াইল বস্তিতে শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে দারিদ্র্য, পড়াশোনায় বাধা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের কথা শোনেন রাসেল। তিনি বলেন, ‘১৪ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সে আমাকে জানায়, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে শিশুবিবাহ থেকে রক্ষা করেন। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটির এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাসেল। এ সময় তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। রাসেল বলেন, ‘বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।’
কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাসেল। এ সময় তিনি ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা– উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাসেল ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে সরাসরি শোনেন।

রাসেল বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে– এটি হতে দেওয়া যাবে না। তাদের এবং যে কমিউনিটি তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।

সারাদেশে শিশু ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সেবাগুলো শক্তিশালী করতে সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা (স্যানিটেশন) এবং শিশু সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
শিশুবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং শিশুদের জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতেও কাজ করছে ইউনিসেফ। কক্সবাজারে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারকে জীবন রক্ষাকারী ও জরুরি সেবা দিয়ে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com