April 27, 2026, 3:00 pm
স্টাফ রিপোর্টার ॥
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে ‘আল্লাহর নামে’ রাস্তায় ছেড়ে দেয়া একটি ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে এই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করছেন। এ ঘটনায় শনিবার চরকাউয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন। সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় উে
বিরাজ করছে। সোহেল হাওলাদার দাবি- এই ষাঁড়টি তিনি দূর্গাপুর এলাকায় ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দিয়েছিলেন। যেটি হাটতে হাটতে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে চলে যায়। সেখানে দীর্ঘদিন ছিল ষাঁড়টি। ষাঁড়টি জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি কর্মকর্তার সনদ নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কামরুন নাহার কলি। তিনি বলেন, ডাক্তারি ফিটনেস সনদ ছাড়াই ষাঁড়টি জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামছুল কবির ফরহাদের গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেয়া একটি ষাঁড়ি ইউনিয়নের আট হাজার গ্রামে বসে জবাই করেন। ষাঁড়টি জবাই করে ৬০০ টাকা কেজি দরে প্রায় ৯৩ হাজার টাকার মাংস বিক্রি করেছেন তিনি। এদিকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরপরই ফরহাদ মেম্বার তড়িঘড়ি করে একটি ষাঁড় কিনে এলাকায় ছেড়ে দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সামছুল কবির ফরহাদ ওরফে ফরহাদ মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ‘আল্লাহর নামে’ ছেড়ে দেয়া ষাঁড় জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন- ওই ষাঁড়টি আমরাই কিনে ছেড়ে দিয়েছিলাম। ষাঁড়টি রোগা হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসীর কথা অনুয়ায়ী জবাই করে মাংস বিক্রি হয়েছে। সেই টাকা থেকে ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় কিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আর কিছু টাকা কসাইকে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা আমার কাছেই রয়েছে। দূর্গাপুরের সোহেল হাওলাদার কিভাবে আপনারা কিনে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড়ের মালিকানা দাবি করেন? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দিতে পারেন নি তিনি। কাউনিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) উজ্জল ভক্ত বলেন- অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এখন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র দাশ জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে পুলিশ পাঠিয়েছি, বিষয়টি জেনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply