বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
Logo

বাংলাদেশের ফাইনালের পথে এবারও বাধা ভারত

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের মেয়েদের গল্পটা এখন যেন প্রায় একই রকম। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে জিততে জিততে হেরে যাওয়া। এরপর গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পাওয়া—গত আসরের মতো এবারও সব এগোচ্ছে একই ধারাবাহিকতায়।

আজ সন্ধ্যায় দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রতিপক্ষ সেই ভারতই। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ আসরে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশ নারী দলের। এবার বাংলাদেশের অবস্থা সেবারের তুলনায় ভালো তো নয়ই, বরং খারাপই বলতে হয়। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার, অন্য দুই ম্যাচ জিতলেও তৃপ্ত হওয়ার মতো ছিল না কোনোটিই।

এবারই প্রথম এশিয়া কাপ খেলতে আসা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ১২৯ রান করলেও হারাতে হয়েছে ৮ উইকেট। গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তো এক শ করাটাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল! ব্যাটিংয়ের পুরোনো সমস্যা এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের জন্য হয়ে উঠেছে বড় দুশ্চিন্তার নাম। রান করাটাই যেন সবচেয়ে কঠিন বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য!

এই দুশ্চিন্তা সঙ্গী করেই আজ অপ্রতিরোধ্য ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২৪ টি–টুয়েন্টি খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটিতে। এশিয়া কাপের সবচেয়ে বেশিবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি অবশ্য দিয়েছেন দলের ব্যাটার শারমিন আক্তার।

পরশু আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তারা (ভারত) এই টুর্নামেন্টের শীর্ষ দল। আপনি যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তাহলে এই ধরনের দলের সঙ্গে খেলতে হবে। তাদের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের জন্য উপভোগের, চাপের নয়।’

২০১৮ সালে নারী টি–টুয়েন্টি এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর আর কোনো আসরে যেতে পারেনি ফাইনালেই। ২০২২ সালে সিলেটে হয় পরের এশিয়া কাপ। কিন্তু সেবার ঘরের মাঠে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই থমকে যায় বাংলাদেশের পথচলা। গত আসরে সেমিফাইনালে হারতে হয় ভারতের কাছে। ব্যাটারদের দুর্দিনে এবার ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য কিছু করে দেখাতে হলে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে বোলারদের দিকে।

দুবাইয়ের টুর্নামেন্টে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ইন্দোনেশিয়াকে ৫৮ রানে অলআউট করে দেওয়া, ১১৫ রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কার ৬ উইকেট হারানো কিংবা আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে ৬৯ রানে আটকে রাখা; বাংলাদেশের মূল অস্ত্র ছিলেন স্পিনাররাই। সঙ্গে সব কন্ডিশনেই দলের জন্য বাড়তি শক্তি হিসেবে থাকেন মারুফা আক্তার।

এবারের টুর্নামেন্টেও দুর্দান্ত বোলিং করছেন মারুফা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই ইনিংসের প্রথম স্পেলে বল করতে এসে উইকেট নিয়েছেন। পেসারদের মধ্যে এবারের এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি উইকেটও তাঁর।

মারুফা তাঁর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে, সঙ্গে স্পিনাররাও ঠিকঠাক তাঁদের কাজটা করতে পারলে আজ বাংলাদেশের ভালো কিছুর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ছোট একটা পরিসংখ্যান বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করতে পারে। ভারতকে যে তিনবার টি–টুয়েন্টিতে হারিয়েছে বাংলাদেশ, এর দুবার তারা তাদের আটকে রাখতে পেরেছিল ১০২ ও ১০৯ রানে।

নারী ক্রিকেটের প্রথম বড় সাফল্য এসেছিল যে টুর্নামেন্টে, সেই নারী এশিয়া কাপেই এখন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী বাংলাদেশ। এবার কি ভাঙবে সে বৃত্ত? উত্তরটা জানতে আজ তাকিয়ে থাকতে হবে দুবাইয়ের দিকে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com