রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
Logo

নিজের ভিক্ষার টাকায় দাফন হলো ওয়াহাবের

প্রতিবেদকের নাম / ১ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোলার মনপুরায় নিজের জানাজা ও মৃত্যুর পর মানুষকে খাওয়ানোর জন্য ভিক্ষা করে একটু একটু করে টাকা জমিয়ে রাখতেন সত্তরোর্ধ্ব এক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মফুর বাপ’ নামে পরিচিত হলেও তার প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী।

মৃত্যুর পর দাফনের খরচের কারণে জানাজা ও দাফন না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি টাকা জমিয়ে রাখতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজারে মেয়ের বাড়িতে মারা যান।

পরে শুক্রবার জুমার আগে তার জমানো টাকা দিয়ে দাফনের কাপড় কেনা হয়। এরপর বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয়রা তাকে দাফন করেন।

সত্তরোর্ধ্ব ওয়াহাব পাটোয়ারী ওরফে ‘মফুর বাপ’ উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা-পয়সা পুঁটলিতে (পলিথিনে মোড়ানো) করে রাখতেন। পরে রাতে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে ওই টাকা আমানত হিসেবে জমা রাখতেন।

মৃত্যুর দিন রাতে ওয়াহাব পাটোয়ারী মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানেই তিনি মারা যান।

তার মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা টাকার পুঁটলি খুলে গণনা করে ৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পাওয়া যায়। এরপর আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা, সাবেক যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী শাহীন ২ হাজার টাকা তুলে দেন ভিক্ষুকের আত্মীয়দের কাছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী মাথার সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না। পথে-বাজারে ভিক্ষা করতেন এবং পথে-ঘাটেই ঘুমাতেন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের কাছেও যেতেন না। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে জমা রাখতেন।

মৃত্যুর পর সাবেক চেয়ারম্যান ভিক্ষুকের জমানো টাকা ফেরত দিয়ে তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় স্থানীয়রা এটিকে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী জানান, নিজের দাফনের টাকা নিজেই জমিয়ে রেখেছেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী (ভিক্ষুক) দাদার ওসিয়ত মতে সবকিছু করা হবে। স্থানীয়রা সবাই মিলে আয়োজন করে মানুষজন খাওয়ানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com