রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
Logo

গরমে রোগী-স্বজনদের দুর্ভোগ বরিশালে হাসপাতালেও ৮-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং

প্রতিবেদকের নাম / ১ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশাল নগরীর ১০০ শয্যার সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালেও দিনে-রাতে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি অচল রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থাও নেই। ফলে বাধ্য হয়ে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করে রোগীদের সেবা নিতে হচ্ছে। এ সংকট কাটাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও তা কবে বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের ভিড়। অনেকেই শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ বৈদ্যুতিক পাখা। স্বজনরা হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করছেন। টিনের চালার নিচে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে গরমে রোগীদের কষ্ট করতে দেখা গেছে। আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগেও চিকিৎসা নিতে আসেন কয়েকশ রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলে কোনো কোনো দিন এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ না থাকলে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। আবার চাহিদা কিছুটা কম থাকলে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসাবে দিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে হাসপাতাল।

হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একটি জেনারেটর ছিল। ২০১৯ সালের দিকে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ায় চালু করা হয়নি। এরপর থেকে লোডশেডিং হলেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘদিনেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে।

নগরীর পলাশপুরের বাসিন্দা রোগী আবদুর রহমান বলেন, ‘চার দিন ধরে হাসপাতালের গরমের মধ্যে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। বন্ধের দিন বাদে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এভাবে কোনো হাসপাতাল চলতে পারে না। রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসক-সেবিকারাও কষ্ট করছেন।’

এদিকে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ কমাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এজন্য মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটি বাস্তবায়ন হবে তা নিশ্চিত নয়। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘আবাসিক এলাকায় যেমন লোডশেডিং হচ্ছে, হাসপাতালেও হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের চিন্তা আছে। মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এটি সময়সাপেক্ষ বিষয়। তবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।’

ওজোপাডিকোর পলাশপুর সাবস্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, ‘বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলে এক ঘণ্টা পরপর জেনারেল হাসপাতালে লোডশেডিং দিতে হয়। চাহিদা কম থাকলে দুই ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি।’ ওজোপাডিকো-২, বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে কম লোডশেডিং দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের জোগান কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পেলেই লোডশেডিং বন্ধ হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com