বরগুনায় আদালত কক্ষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য এবং দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি বশিরকে তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া এক হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বশির বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকার বাসিন্দা।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আদালতে একটি সিআর মামলার অস্থায়ী জামিন শুনানি শুরু হয়। ওই মামলায় অস্থায়ী জামিনে থাকা আসামি বশিরের জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক। এতে এজলাসের মধ্যেই ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে জামিন কেন বাতিল হয়েছে জানতে চেয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এছাড়াও অশ্লীল ভাষা এবং উচ্চবাচ্য করতে থাকেন তিনি।
এ সময় এজলাসে উপস্থিত আইনজীবীরা বশিরকে থামতে বললেও তিনি থামেননি। একপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বশিরকে হ্যান্ডকাপ পরাতে গেলে উত্তেজিত অবস্থায় তাদেরকে মারধর করেন। পরে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান একটি সিআর মামলা আমলে নিয়ে উপস্থিত সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করে বশিরকে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য মো. সিদ্দিক, মো. শাহজাহান ও হনুফা আহত হয়েছেন। এবং আহতদের মধ্যে মো. শাহজাহান বেশি আহত হয়েছেন বলেও জানা তিনি।
এ বিষয়ে জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, আদালতে হাজির হওয়া আসামিকে বিচারক জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এতে ওই আসামি উত্তেজিত হয়ে উচ্চবাচ্য কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ থামাতে গেলে তাদেরকে গায়ে হাত তোলাসহ ধাক্কাধাক্কি করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের বিচারক ৩২৩ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন তাকে।