বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
Logo

মাদ্রাসার টেবিল-বেঞ্চ বিক্রির অভিযোগ শিক্ষক-লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চরফ্যাশন উপজেলার কুতুবগঞ্জ মাজিদিয়া দাখিল মাদরাসার কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুলের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন ওই মাদরাসার ইবতেদায়ি শাখার প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নুর নবী মাদরাসায় গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন।

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবগঞ্জ মাজিদিয়া দাখিল মাদরাসার অভিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুল দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদরাসায় উপস্থিত না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, পাঠদানে চরম অবহেলা, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটিকে তোয়াক্কা না করে মাদরাসা বন্ধের দিনে টেবিল, চেয়ার ও হাই বেঞ্চ বিক্রি করে দেওয়াসহ নানা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ানের এমন কর্মকাণ্ডের কারণে মাদরাসার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মাদরাসা প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারছিল না। ফলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করে এই লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযুক্ত কম্পিউটার শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ও লাইব্রেরিয়ান মো. মহিবুলের দাবি, টেবিল ও হাই বেঞ্চ বিক্রির জন্য মাদরাসার সুপার মাহাবুবা আক্তার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন সহ-সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন। তারা দুজনও ওই কমিটির সদস্য ছিলেন।

মো. মহিবুল বলেন, ৩৪টি হাই বেঞ্চ ১ হাজার ৫ টাকা করে এবং চারটি টেবিল ৭০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে। এগুলো বিক্রির জন্য কমিটি করা হয়েছিল। এর বাইরে আমরা কিছুই জানি না।

 

সহ-সুপার মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, আমি হাই বেঞ্চ ও টেবিল বিক্রয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ছিলাম। কিন্তু দুই শিক্ষক আমাদের না জানিয়ে বন্ধের দিনে হাই বেঞ্চ ও টেবিলগুলো বিক্রি করে ফেলেন।

এদিকে অভিযোগটি তদন্তে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. নুর নবীকে দায়িত্ব দিয়েছেন ইউএনও। মো. নুর নবী বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, কুতুবগঞ্জ মাজিদিয়া দাখিল মাদরাসার ইবতেদায়ি প্রধানের একটি লিখিত অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com