শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
দরিদ্র মানুষের পুষ্টিতেও মূল্যবৃদ্ধির থাবা শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিদর্শন বন্ধ কুয়াকাটার সীমা বৌদ্ধবিহার দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি বরিশালে পূজার বরাদ্দের চালে ‘ভাগ বসাল’ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নলছিটি উপজেলায় তিন পরিবারে স্বস্তি ফেরাতে অটোভ্যান ও বকনা বাছুর উপহার চিকিৎসা সংকটে দেশে বাড়ছে আঘাতজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে পিছিয়ে বাংলাদেশ ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান পদমর্যাদা অনুযায়ী বেতন পাবেন প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা জুলাই সনদ যতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছিল তাও বাতিল

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

বানারীপাড়ায় বিবাহবিচ্ছেদের পর দুগ্ধপোষ্য দুই বছর আট মাসের শিশুকন্যা হুমায়রাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।

সাবেক স্বামীর কাছ থেকে শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে তুলে দেওয়ায় থানার ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামের নির্মাণশ্রমিক জালিস মাহমুদ বাদী হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

থানায় দাখিল করা অভিযোগ ও আদালতে দায়েরকৃত মামলাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার মাদারকাঠী গ্রামের পপি খানম নামের এক নারী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকন্যা হুমায়রা জান্নাতকে সাবেক স্বামীর কাছ থেকে ফিরে পেতে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওসি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এসআই মো. জাহিদ হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

নির্দেশ অনুযায়ী ওই দিন এসআই জাহিদ হোসেন উপজেলার মহিষাপোতা গ্রামে নির্মাণশ্রমিক জালিস মাহমুদের বাড়ি থেকে শিশুকন্যা হুমায়রা জান্নাতকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় অবহেলায় শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

অপরদিকে একই সময় নির্মাণশ্রমিক জালিস মাহমুদ তার মেয়েকে থানা থেকে ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবু তুর্কী টুলু, মানবাধিকারকর্মী পরীবানু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থানায় আসেন। এ সময় সবার উপস্থিতিতে শিশু হুমায়রার সার্বক্ষণিক দেখাশোনা ও সুস্থতার স্বার্থে তাকে মা পপি খানমের কাছে রাখার ব্যাপারে একমত হন তারা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী থানা থেকে পপি খানম তার সন্তানকে নিয়ে মাদারকাঠী গ্রামের বাড়ি ফেরেন।

কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জালিস মাহমুদ বাদী হয়ে থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান ও এসআই মো. জাহিদ হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৫ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তাকে থানায় আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুকন্যাকে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটির তদন্তভার বরিশাল পিবিআই পুলিশ সুপারকে প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সাবেক স্বামীর কাছ থেকে অসুস্থ দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ফিরে পেতে এক অসহায় মা থানায় অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সন্তানকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ এর জেরে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com