মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি, নেপথ্যে কী? পিরোজপুরে ট্রলার ডুবিতে মা নিখোঁজ, মেয়ের লাশ উদ্ধার পাথরঘাটা উপজেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান চিফ হুইপের তরমুজের জমি মাপতে গিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২ বরিশালে চাঁদা দাবির প্রতিবাদ করায় জেলেদের ওপর হাতবোমা হামলার অভিযোগ, আহত ৫ ঝালকাঠিতে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন ৫ শিক্ষকেই ৫৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয় বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, ৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ভাসমান বেডে ১০ কোটি টাকার সবজির চারা, বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি হাসপাতালের রাস্তা কাগজে, বাস্তবে নেতার বাড়ির পথ!

হাসপাতালের রাস্তা কাগজে, বাস্তবে নেতার বাড়ির পথ!

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গর্ভবতী নারী ও সাধারণ রোগীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই বরাদ্দের টাকায় সংস্কার করা হয়েছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বাড়ির প্রবেশপথ। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থ ব্যবহারে এ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে দুই ধাপে ৪০০ মিটার রাস্তার সলিং ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নির্দেশনায় চর মাদ্রাজ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেরামতগঞ্জ বাজারের মূল সড়ক থেকে উত্তর দিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি আগের মতোই কাদামাটিতে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী। অন্যদিকে, বরাদ্দের অর্থে বিএনপির স্থানীয় নেতা ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফখরুদ্দিন শাহিন মালতিয়ার বাড়ির প্রবেশপথ পাকা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে কেরামতগঞ্জ বাজারসংলগ্ন চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াতের রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া-আসা করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

জনস্বার্থে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও কাজটি সেখানে করা হলো না কেন?

প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার সবুজ, যিনি এলাকায় ‘ব্যাটারি সবুজ’ নামে পরিচিত, তার কাছে কাজের অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, আগে যা হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনার দরকার নেই। আমি আমার পকেটের টাকা দিয়ে হাসপাতালের সামনের রাস্তা পাকা করে দিব।

তবে সরকারি বরাদ্দের অর্থে নির্ধারিত স্থানে কাজ না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তার এই বক্তব্য নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ অনুমোদিত স্থানে না করে অন্য জায়গায় করা হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি জানতেন। ঠিকাদারকে বারবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনের রাস্তা পাকা করার কথা বলেছিলেন বলেও জানান তিনি।

ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, আমি ঠিকাদারকে বারবার বলেছি, অন্য কিছু যা হয়েছে, অন্তত হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি যেন পাকা করা হয়। কিন্তু তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।

কাজ যথাযথভাবে না হওয়ার পরও বরাদ্দের অর্থ কেন আটকে দেওয়া হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে পিআইও বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা চাইলেই অনেক কিছু করতে পারে না, এটা আপনাকে বুঝতে হবে।

প্রকল্পের সভাপতি ও চরফ্যাশনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তার ভাষ্য, পিআইওর সঙ্গে কথা বললে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং পরে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com