নির্বাচিত চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুর উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শুক্রবার স্থানীয় সরকার বরিশালের উপপরিচালক উপমা ফারিসা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে চারাদীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান, দাড়িয়ালে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস, দুর্গাপাশায় অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুর রহমান এবং ফরিদপুরে একাডেমিক সুপারভাইজার মো. এনামুল হককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কবাই ইউনিয়নে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, নলুয়ায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইলিয়াছ আহমেদ আকন, কলসকাঠীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন মাসুদ, গারুড়িয়ায় সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, ভরপাশায় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস সোহা, রঙ্গশ্রীতে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃ. ওয়ায়ামুল্লাহ এবং পাদ্রীশিবপুরে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
মুলাদী উপজেলার চার ইউনিয়নের মধ্যে মুলাদী সদরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম, নাজিরপুরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন মো. নজরুল ইসলাম, কাজিরচরে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উত্তম কুমার বিশ্বাস এবং চরকালেখানে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশারকে প্রশাসক করা হয়েছে।
উজিরপুরের চার ইউনিয়নের মধ্যে সাতলায় উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন চৌধুরী, জল্লায় উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শোলকে উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা শামছুদ্দোহা চৌধুরী এবং বড়াকোঠায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার দায়িত্ব পেয়েছেন।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের অনেক কার্যক্রমে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ায় আপাতত সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছি। তবে প্রশাসকদের সেবা দিতে গিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি যাতে না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি কাজে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।