মহাবিশ্বের বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। মহাশূন্যে লুকিয়ে থাকা হাজারো রহস্যের মধ্যে এমন কিছু দানবীয় গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ রয়েছে, যাদের আকৃতি অবাক করার মতো। সম্প্রতি স্পেনের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিকস অব ক্যানারিয়ার বিজ্ঞানী কার্লোস মারেরো দে লা রোসার নেতৃত্বে একদল গবেষক মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যালাক্সি ‘আইসি ১১০১’–এর বিশালতার তথ্য জানিয়েছেন যা মানুষের ধারণাকেও হার মানায়। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশাল গ্যালাক্সিটির মূল নাক্ষত্রিক অংশ প্রায় ১৭ লাখ আলোকবর্ষ বা ৫২০ কিলোপরসেকজুড়ে বিস্তৃত। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চেয়ে এটি প্রায় ২০ গুণ বড়।
আইসি ১১০১ নামের গ্যালাক্সিটি অ্যাবেল ২০২৯ নামের গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের ভেতর কোটি কোটি তারার আলো ছড়িয়ে অবস্থান করছে। তবে এর সঠিক প্রান্ত বা সীমা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। গ্যালাক্সির বাইরের সীমানার তারার আলো ক্লাস্টারের অন্যান্য আলোর সঙ্গে মিশে থাকে। আর তাই গবেষকেরা স্পেনের রকি দে লস মুচাচোস অবজারভেটরির আইজ্যাক নিউটন টেলিস্কোপ ব্যবহার করে সবচেয়ে নিখুঁত ছবি সংগ্রহ করেন। এরপর আলোর ঘনত্ব ও তারার রঙের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সীমানা চিহ্নিত করা হয়।
চমকপ্রদ বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটি থেমে নেই। এর বাইরের অংশে ছোট ছোট গ্যালাক্সির অবশিষ্টাংশ ও নতুন উপাদান যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। দানবীয় এ গ্যালাক্সি আকারে আরও বড় হচ্ছে। অতীতে ছোট গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের সঙ্গে মিলে যাওয়ার কারণেই এটি এমন বিশাল রূপ ধারণ করেছে।
বিজ্ঞানী কার্লোস মারেরো দে লা রোসা জানিয়েছেন, আইসি ১১০১ গ্যালাক্সিটি বর্তমান মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলোর সর্বোচ্চ সীমার একটি বড় প্রমাণ। ভবিষ্যতে অন্য গ্যালাক্সিগুলোও ধীরে ধীরে এ আকার ধারণ করতে পারে। এ ধরনের দানবীয় ছায়াপথগুলোর ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীরা আরও গভীর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গবেষণার ফলাফল অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিকস জার্নালে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে।







