দেশে ৭৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি সেচের আওতায় রয়েছে। সেচে ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরচালিত পাম্পের ব্যবহার বাড়ছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশে ১ হাজার ৫০০টির বেশি সৌরচালিত সেচপাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে সচেতনতার ঘাটতি, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্ষমতার ঘাটতি এর সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডব্লিউএমআই) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত দুটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
দেশজুড়ে এখন জ্বালানিসংকট। বিশেষ করে বিদ্যুতের ঘাটতি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় বারবারই উঠে আসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্বের কথা। সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে রংপুর ও যশোরে দুটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। আইডব্লিউএমআইয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দুই দিনের প্রশিক্ষণে ৬ জেলা ও ১৯ উপজেলার ৬০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও এনজিওর কর্মী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৩০ শতাংশ নারী।
প্রশিক্ষণে সৌরপাম্প ও সেচব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিক, স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, কৃষকের প্রয়োজন মূল্যায়ন এবং অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সৌরচালিত সেচব্যবস্থার ব্যবহারিক দিক দেখানো হয়।
আইডব্লিউএমআইয়ের সোলার প্রকল্পের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট জয়ন্ত ভট্টাচার্য বলেন, সৌরচালিক সেচের সম্প্রসারণ শুধু আরও বেশি সৌরপাম্প স্থাপনের বিষয় নয়। কোথায়, কখন ও কীভাবে এই প্রযুক্তি টেকসইভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে কৃষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
কর্মশালা শেষে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন, অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী মূল্যায়ন করা হয়। মাঠভিত্তিক সেশনে অংশগ্রহণকারীরা সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সৌরচালিত সেচের ব্যবহারিক দিক ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।







