বরগুনার বামনায় কান্নার শব্দে মহাসড়কের পাশ থেকে বাজারের ব্যাগে রাখা এক সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকালে সোনাখালি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সামনে থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মহাসড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি একটি বাজারের ব্যাগের ভেতর নবজাতক শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামানকে জানান। খবর পেয়ে কামরুজ্জামান ও ফায়ার সার্ভিসের সামনে চা-বিক্রেতা তারিক হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নবজাতক উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কে বা কারা শিশুটিকে ব্যাগে ভরে মহাসড়কের পাশে ফেলে গেছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। শিশুটির বাবা-মায়ের পরিচয়ও পাওয়া যায়নি।
শিশুটির দেখভালের জন্য চা-বিক্রেতা তারিক হোসেন তাকে নিজের জিম্মায় নেন। বর্তমানে তার বোনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে নবজাতকটি। তারিকের পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটির প্রয়োজনীয় যত্ন ও পরিচর্যা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে যেমন মানবিকতার প্রশংসা দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে নবজাতককে এভাবে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। শিশুটির প্রকৃত পরিচয় এবং তাকে ফেলে যাওয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাম্মদ নিকাত আরা যুগান্তরকে জানান, খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছি। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। তাছাড়া শিশুটির জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় কাপড়ও দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত শিশুটির কোনো গার্ডিয়ানের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বামনায় উপজেলা শিশু সুরক্ষা কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।