পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) র্যাগিংয়ের মাধ্যমে এক নবীন শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ১৩ শিক্ষার্থীকে শাস্তির আওতায় এনেছে কর্তৃপক্ষ।
শাস্তির মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এক সেমিস্টার থেকে এক বছরের জন্য হল ও ক্লাশ থেকে বহিষ্কার, অভিভাবকের উপস্থিতিতে মুচলেকা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়িত হলে স্থায়ী বহিষ্কারের সতর্কবার্তা।
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রিয় কুমার সাহা, আসিফ জাহান, তৌফিক হোসেন আলিফ, মনুয়িম তাজওয়ার মাহি, আশরাফুল হক চৌধুরী, সাকিব হোসেন মজুমদার, মুমিনুল ইসলাম লাবিব, উৎস বর্মণ, নাহিম, মুজাহিদুল ইসলাম, জোবায়ের আহমেদ লিমন, রাজিব মিয়া ও লক্ষণ চন্দ্র রায়। তারা প্রত্যেকেই বিজয়-২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আদেশে বলা হয়, ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে র্যাগিংয়ের পরিকল্পনা, নেতৃত্ব প্রদান, অংশগ্রহণ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট রাতে আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থী হাবিবকে বিজয়-২৪ হলের কমনরুমে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এতে ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী হাবিব।
পবিপ্রবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. রাহাত মাহমুদ এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।