বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
Logo

কুয়াকাটায় ২০টি দোকান দখলে নিয়ে তালা

প্রতিবেদকের নাম / ১২ সময় দৃশ্য
আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দখল নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুঁটকি, আচারসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হতো।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি ও তাঁর ছেলে রিয়াজ মুসুল্লির নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ জন দখল কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের মারধর করার পাশাপাশি মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকানগুলো ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দোকানগুলো দখলের চেষ্টা করা হয়। পরে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় প্রশাসন জমির কাগজপত্র দেখে বেল্লাল মোল্লাকে মালিক হিসেবে গণ্য করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা দোকান দখল নেওয়ার সময় তাঁরা জাতীয় জরুরি নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে মহিপুর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়; কিন্তু পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানিদের মারধর করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল ইসলাম রাসেলসহ অন্যরা।

শুঁটকির দোকানি রুবেল মৃধার অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে তিনি স্থানীয় বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে স্টল ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। আজ সকালে দখলকারীরা তাঁর ও অন্যান্য দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে তাঁদের চলে যেতে বলে। এ সময় প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আচার ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, আজ সকালে স্থানীয় বিএনপির লোকজন তাঁর ও অন্যান্য দোকান দখলে নেন। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে এবং পুলিশকে খবর দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে তিনি মালামাল নিয়ে সরে যান।

জমির মালিক দাবি করা বেল্লাল মোল্লা জানান, উল্লেখিত জমি নিয়ে পটুয়াখালীর একটি আদালতে মামলা চলমান। তবে একই ব্যক্তিরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সব দোকান দখলে নিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির হস্তক্ষেপে দোকানগুলো মুক্ত করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয় সেনা ক্যাম্প, উপজেলা ভূমি অফিস ও মহিপুর থানা-পুলিশের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়া হলে তাঁরা উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল থাকার পরামর্শ দেন। অথচ এসব সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর জমিতে থাকা ২০টি দোকানের মালামাল বাইরে ফেলে দিয়ে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লি মুঠোফোনে বলেন, ‘১৬–১৭ বছর পর্যন্ত তাঁরা আমার জমি দখল করে রেখেছেন। জমি উদ্ধারের জন্য অনেকের দারস্থ হয়েছি। কিন্তু সমাধান হয়নি। ভাড়াটিয়াদের আমার সঙ্গে নতুন চুক্তিনামা কর‌তে ব‌লেছি। কিন্তু তাঁরা তাও শোনেননি। আজ ভাড়াটিয়াদের মালামাল নিয়ে দোকান ছাড়তে বলার পর তাঁরা স্বেচ্ছায় চলে গেছেন।’

এ সম্পর্কে কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। তিনি বলেন, জমিটি লুজ খতিয়ানের (ভাঙনকবলিত) হওয়ায় বিরোধ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে আবার দখল ও দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com