বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
Logo

জটিলতা কাটিয়ে আজ আসছে রূপপুরের জ্বালানি

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে আসছে। রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে দুপুর নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় তা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি—সব মিলিয়ে নয়টি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি আসবে। আজ প্রথম চালান দিয়ে সরবরাহ শুরু হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কার্গো বিমানটি যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব দেশের অনুমতিও নিতে হয়। রাশিয়া ও বাংলাদেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় আগের নির্ধারিত একটি ফ্লাইট শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ছাড়পত্র পাওয়ায় নতুন করে ফ্লাইটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো বিমানটির নির্ধারিত রুট রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশ। আগেরবার পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, এটি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত ছিল না। বিমান চলাচলসংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত বিষয়েই ওই জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর পর ওই ইউনিটের জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হবে। এ কারণে রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানিও আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে। তখন বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি মেরামতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও আনা হয়েছে। মেরামতের কাজ শেষ হলে প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলছে। নয়টি কার্গোতে জ্বালানি সরবরাহ শেষ হলে দুই ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com