শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন
Logo

বরিশালে তালাবদ্ধ ফ্লাটে আইনজীবীর সহকারীর লাশ, স্ত্রী পলাতক

প্রতিবেদকের নাম / ১১ সময় দৃশ্য
আপডেট: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশাল নগরীতে পরকীয়ার জেরে আইনজীবী সহকারী স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন স্ত্রী নাছিমা বেগম।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে নগরীর বাঘিয়া এলাকার ইছাকাঠী কলোনী গলীর তৃতীয় তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্লাটে এই ঘটনা ঘটে। ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন আইনজীবী সহকারী।

নিহত মো. নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী সহকারী (মুহুরী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে কুয়েত প্রবাসী।

তবে ঘটনার সময় নরুজ্জামান এবং তার স্ত্রী নাছিমা বেগম ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ এবং বাড়ির মালিক। নিহত নুরুজ্জামান মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে।

বাড়ির মালিক আহসান হাবিব জানান, ঘটনার পূর্বে সোমবার রাত ২টার দিকে নাছিমা বেগম বাসা থেকে বের হয়ে তার ভাতিজির সাথে দেখা করেন। ওই সময় তার ভাতিজির হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে আসেন এবং বলে আসেন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বের) পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।

পরে ভাতিজি তার স্বামীকে নিয়ে ওই বাসায় যাওয়ার পর দরজা বন্ধ দেখে জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে সোমবার রাতে পুলিশ দরজা খুলে বিছানায় নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

পুলিশ জানিয়েছে, নুরুজ্জামানের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বলেন, ট্রিপল নাইনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ভোররাতে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। বাড়ির মালিককে সাথে নিয়ে তিনতলায় গিয়ে একটি কক্ষে নুরুজ্জামানের লাশ দেখতে পাই। রক্তাক্ত অবস্থায় লাশটি বিছানার ওপর পড়ে ছিল।

তিনি বলেন, বাসায় নুরুজ্জামান এবং তার স্ত্রী নাছিমা বেগম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় গভীর রাতে দুইবার বাসার থেকে বের হন নাছিমা বেগম। এ সময় তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল, যা নাছিমা তার ভাতিজির হাতে দিয়ে আসেন। ওই ভাতিজি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তার ব্যাগ থেকে নিহতের মোবাইল এবং বাসার চাবিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিবারের ভিতর থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে নিহতের স্ত্রী এ কাজ করতে পারেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে- অন্য নারীর সঙ্গে নুরুজ্জামানের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে পরিবারে কলহ চলছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পলাতক স্ত্রীকে খুঁজে বের করতে পারলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com