শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
Logo

ফের তারেক রহমানের দিল্লি সফর আয়োজনের চেষ্টা ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক করছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা

প্রতিবেদকের নাম / ৫ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাময়িক টানাপোড়েনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে ভারত ও বাংলাদেশ আবারও সরকারি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসেই এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।

দ্য হিন্দু বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিছুটা ধাক্কা খায়। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থানে বাস করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তারা ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা এই সফরের এজেন্ডা নির্ধারণের কাজ করছেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ঢাকার একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, তারেক রহমান চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করবেন। এর পর অক্টোবর ও নভেম্বরে তাঁর একাধিক কূটনৈতিক ব্যস্ততা রয়েছে। এরই মধ্যে নভেম্বরের একটি উপযুক্ত সময়ে তাঁর নয়াদিল্লি সফরের সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত কয়েক দিনে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশ এই সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ঢাকা একটি অনুকূল সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে অগ্রাধিকার দেবে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে দ্য হিন্দু বলেছিল, বিএনপি সরকার চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি কর্মসূচি বাতিল হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছে।

সম্প্রতি ভারতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনা এবং তাঁর শীর্ষ কয়েক মন্ত্রী ও কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

ঢাকার বর্তমান প্রশাসনের একাধিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু দাবি করেছে, লন্ডনে থাকাকালেও তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পর ভারতের মনোভাব বোঝার জন্য তারেক রহমান দেশটিতে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন। দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগে ২০১৮ সালে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করেছিল। ওই দলে ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com