প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর।
বরিশালে এক বিশেষ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি পাঁচটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বরদাশত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কার্যক্রমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ সভা করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বরিশালের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য এই সভা করা হয়েছে। আমরা দেখলাম, আগের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আগের চেয়ে আরও ভালো কাজ করছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তিনি জানান, আগামী বছরের এপ্রিল মাসে বরিশালের ক্যানসার হাসপাতাল চালু করার লক্ষ্য রয়েছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে নভোথিয়েটারের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ হবে না। প্রতিটি কাজের গুণগত মান যেন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।
সভায় দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নকাজের মান নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহিরউদ্দিন স্বপন এমপি।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর।
এছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও বিভাগের প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মহানগর ও জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা সভায় অংশ নেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, সরকারি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।