শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
Logo

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে, তৃতীয় দফা ভোটেও কাটেনি ধোঁয়াশা

প্রতিবেদকের নাম / ৮ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা। ইতিমধ্যে সংস্থাটির পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

নতুন নেতা বাছাইয়ে গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটি করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তবে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা এ গোপন ভোটেও কোনো প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারেননি।

নিরাপত্তা পরিষদের এ ভোটাভুটির আনুষ্ঠানিক কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠক শেষে পরিষদের বর্তমান সভাপতি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট শুধু জানান, তৃতীয় দফার খসড়া ভোটাভুটি সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে এখন আট প্রার্থী লড়ছেন। তবে প্রথম দুই দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও কোনো একক প্রার্থী স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারেননি।

দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। আর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি ছিলেন তৃতীয় স্থানে।

নানা সংকটে থাকা জাতিসংঘে এবার একজন নারী মহাসচিব দেখতে চায় নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্যদেশ। ইতিমধ্যে তারা নিজেদের এ পছন্দের কথা প্রকাশ করেছে।

দ্বিতীয় দফার গোপন ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন গায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বার্কেট। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান। আর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি ছিলেন তৃতীয় স্থানে।

মহাসচিব পদের অন্য প্রার্থীরা হলেন সেনেগালের ম্যাকি স্যাল, ইকুয়েডরের ইভন এ-বাকি ও মারিয়া ফার্নান্দা এস্পিনোসা, চিলির মিশেল ব্যাসেলেট এবং উগান্ডার ওলারা ওতুন্নু।

যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এমন কিছু ঘটে, তবে সেটি বড় সংকট তৈরি করবে।

নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন স্থায়ী পাঁচ সদস্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়া। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, ক্ষমতাধর এ পাঁচ দেশের সমঝোতায় শেষ মুহূর্তে হুট করে নতুন কোনো সমঝোতার প্রার্থীকে দৃশ্যপটে নিয়ে আসা হতে পারে।

বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক বলেন, ‘যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এমন কিছু ঘটে, তবে সেটি বড় সংকট তৈরি করবে।’

মহাসচিব হতে হলে একজন প্রার্থীকে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অন্তত ৯টি ভোট পেতে হয়। একই সঙ্গে স্থায়ী পাঁচ পরাশক্তির কারও ভেটো পাওয়া যাবে না। অথচ বর্তমানে এ পাঁচ পরাশক্তির মধ্যে গভীর বিভক্তি ও মতবিরোধ রয়েছে।

কোনো প্রার্থী নিরাপত্তা পরিষদের এ বাধা পার হতে পারলে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য তাঁর নাম পাঠানো হবে জাতিসংঘের সব সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদে।

নির্দিষ্ট কোনো পছন্দের প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে বৃহস্পতিবার বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রার্থীদের অবশ্যই জাতিসংঘকে মূল লক্ষ্যে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হবে। তবে ঠিক কত দফা পর তা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট নয়। ফলে বোঝা যাবে কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো দিয়েছে কি না। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে, তা জানা যাবে না।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অযৌক্তিক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তথাকথিত “ওক” (অতিসচেতন প্রগতিশীল) মতাদর্শ সংস্থাটির কার্যকারিতা নষ্ট করেছে। নতুন মহাসচিবকে অবশ্যই এসব বাদ দিয়ে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্বে জাতিসংঘকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যালটে তিনটি বিকল্প থাকে। এগুলো হলো ‘উৎসাহিত করা’, ‘নিরুৎসাহিত করা’ অথবা ‘মতামত নেই’।

কয়েক দফা অনানুষ্ঠানিক ভোটের পর স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে ভিন্ন রঙের ব্যালট দেওয়া হবে। তবে ঠিক কত দফা পর তা দেওয়া হবে, তা নির্দিষ্ট নয়। ফলে বোঝা যাবে কোনো স্থায়ী সদস্য ভেটো দিয়েছে কি না। তবে কোন দেশ ভেটো দিয়েছে, তা জানা যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com