লোকাল বাসের স্টাফদের সঙ্গে এক যাত্রীর তর্কাতর্কির জেরে বরিশালের গৌরনদীর গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজারে আড়াই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৮টায় শুরু ভূরঘাটা বাজারের এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের বাড়ি গৌরনদী ও পাশের মাদারীপুর জেলার ডাসার ও কালকিনি উপজেলায়। এ সময় দফায় দফায় বিস্ফোরণ হয়েছে ককটেলের, অন্তত ১৪টি দোকানে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ভূরঘাটা বাজারে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে কালকিনি উপজেলার মজিদবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে বরিশালগামী লোকাল বাসে ওঠেন ডাসার উপজেলার যুবক ইমরাত ঘরামী। বাসে ভাড়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্টাফদের তর্কাতর্কি হয়। এর জেরে সেদিন বিকেলে ইমরাতসহ ৮-১০ জন লোক নিয়ে গৌরনদীর ভূরঘাটা বাজারের লোকাল বাস কাউন্টার বন্ধ করে দেন। এ সময় পরিবহন কর্মী ও তাদের লোকজন ইমরাতের পক্ষের লোকজনকে মারধর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ইমরাতসহ তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মহড়া দিতে থাকেন। এ সময় গৌরনদীর অংশের কিছু লোক তাদের ধাওয়া করেন। এ খবর বরিশালের গৌরনদী, মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতার একাংশ এ সময় ভূরঘাটা সেতুর ওপর টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যস্ততম ওই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় ভূরঘাটা বাজারের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে লুটপাট করা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব লুটপাট করেছেন কালকিনি ও ডাসার উপজেলার লোকজন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে কালাম ফকির, ইব্রাহীম সরদার, রাহাত ফকির, নুর আমিন, শামসুল হক হাওলাদার, সিদ্দিক সরদার, আফজাল ফকির, তন্ময় পাল, সজীব বেপারী, কাওছার তালুকদার, মহসীন বেপারী ও ছোবহানের নাম জানা গেছে।
এ বিষয়ে শামসুল হক হাওলাদারের ভাষ্য, কালকিনি ও ডাসারের কয়েকশ লোক ককটেল বিস্ফোরণ করে তাঁর দোকানসহ ১৪টি দোকানে ভাঙচুর করে সব মালপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। বাধা দিলে তাঁকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিতি থাকলেও লুটপাট ঠেকাতে কোনো চেষ্টা করেননি বলেও তাঁর অভিযোগ।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গৌরনদী, কালকিনি ও ডাসার উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। থানা পুলিশের সহায়তায় তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জুয়েল হাওলাদার, সজল বেপারী, সবুর বয়াতি, দিদার ফকির, ফিরোজ কাজী, ইনাম তালুকদার, আদর কাজী, সামসুল হাওলাদার, সুমন বয়াতি, মোশারফ সরদার, ইস্রাফিলের নাম জানা গেছে।
এ বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনা সম্পর্কে বাস শ্রমিক বা কাউন্টার স্টাফদের পক্ষ থেকে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল বলেন, পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট তিন থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।