পটুয়াখালীর বাউফলে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর আলগী নদী থেকে আলম গাজী নামের এক ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। লাশের পরনের লুঙ্গি ও গেঞ্জি দেখে নিহত ব্যক্তির পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে।
আলম গাজী (৪৫) পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মজিবর গাজীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন এবং এলাকায় ‘ফকির’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দুই স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলম গাজী পেশায় প্রথমে টমটমচালক (অটোরিকশা) ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি মাইজভাণ্ডারি তরিকার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তিনি উপজেলার দাসপাড়া এলাকায় একটি আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখানে অসুখ ও নানা রোগ থেকে আরোগ্য লাভের আশায় আসা মানুষকে ঝাড়ফুঁক করতেন। গত পাঁচ দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
গত শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের বাংলা বাজার মসজিদ সংলগ্ন আলগী নদীর ঘাটলায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা কালাইয়া নৌ পুলিশকে খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ওই ব্যক্তির হাত-পা বাঁধা, পেট কাটা ও শরীরে কয়েকটি ইট বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনার জন্য লাশ পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শনিবার সকালে খবর পেয়ে আলম গাজীর স্বজনরা তাঁর সন্ধানে কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এ সময় পুলিশ লাশের সঙ্গে থাকা লুঙ্গি ও গেঞ্জি তাদের দেখালে তারা আলম গাজীর ব্যবহৃত কাপড় বলে তা শনাক্ত করেন।
কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শত্রুতাবশত তাঁকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর পেট কেটে লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের শনাক্তকরণের পাশাপাশি লাশ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’