শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
Logo

আগৈলঝাড়ায় সোয়া কোটি টাকায় সড়ক সংস্কার, তিন মাসের মধ্যেই ভাঙন

প্রতিবেদকের নাম / ১৫ সময় দৃশ্য
আপডেট: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে প্রায় চার কিলোমিটার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত সড়কের কুমার বাড়ি-জোরপোলসংলগ্ন অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা থেকে রাজিহার পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। পরে প্রায় ১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়।

তবে সংস্কারের পর তিন মাস না পেরোতেই কুমার বাড়ি-জোরপোল সংলগ্ন এলাকায় সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায় এবং বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ ও ঝুঁকি বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা সড়ক এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, সড়ক সংস্কারের সময় কাজের মান যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাদের প্রশ্ন, কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা একটি সড়ক মাত্র তিন মাসের মধ্যেই কেন ভেঙে পড়বে? সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারকির বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সড়কটি দ্রুত পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের পাশাপাশি সংস্কারকাজের মান যাচাই করা হোক। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

এদিকে, সংস্কারের মাত্র তিন মাসের মধ্যে সড়কের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা এবং কারো দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা— দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটি পুনরায় চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে কোনো সড়কের কাজ যেন অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি করবে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার রবীন্দ্র চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টির কারণে রাস্তার সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে যায়। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় ঠিক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই বিল পরিশোধ করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com