নিরাপত্তা পরিষদ কার্যত অচল হয়ে পড়লেও জাতিসংঘ এখনও তার মূল লক্ষ্যে সক্রিয় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থার জন্য তিনি পরাশক্তিগুলোর আন্তঃবিভাজনকে দায়ী করেন। দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে গত শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘ মহাসচিব এমন মন্তব্য করেন। গুতেরেস বলেন, বিভাজনের কারণে বড় আন্তর্জাতিক সংকটগুলোতে ভূমিকা রাখতে না পারলেও জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে মানবিক ও শান্তিরক্ষামূলক কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন, পরাশক্তিগুলোরও যে ক্ষমতার সীমা রয়েছে, সেটি তারা মানতে চাচ্ছে না। আর পরাশক্তিগুলোর বিভাজন বিশ্বজুড়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি করেছে। যার ফলে মাঝারি শক্তির দেশগুলো কোনো নিয়ম না মেনে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘে কোনো সংস্কারের প্রয়োজন আছে কিনা, জানতে চাইলে গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘে মৌলিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৪৫ সালের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে নয়। ফলে জাতিসংঘের বৈধতা ও কার্যকারিতা, দুই ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
গাজা প্রসঙ্গে গুতেরেস বলেন, গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সব নীতির লঙ্ঘন। তবে জাতিসংঘ ওই ঘটনাকে আইনগতভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে না বলে জানান তিনি।