পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে নিজ মাকে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
মজিবর রহমানের বোন নূর বেগম (৪৯) বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি করেন। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মজিবর রহমান (৫৫) পাঠাকাটা গ্রামের (৯ নং ওয়ার্ড) মৃত আজহার আলী আকনের ছেলে। মজিবর রহমানের স্ত্রী লাইলী বেগম (৪৫) এ মামলার ২নং আসামি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইউপি সদস্য মজিবর রহমান তার স্ত্রী লাইলী বেগমের প্ররোচনায় প্রায় সময়ই বৃদ্ধ মা সাফিয়া বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও মারপিট করতেন। বোন-ভগিনীপতিসহ আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা এর প্রতিবাদ করতো তাদেরকে ওই বাড়িতে যেতে নিষেধ করা হতো। ইউপি সদস্য পেশাগত কারণে সারা দিন বাড়ির বাইরে থেকে বাসায় ফিরলে তার স্ত্রী বৃদ্ধ মাকে নিয়ে নালিশ ও বিচার দিতেন। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে মা সাফিয়া বেগমকে গালাগালি ও মারপিট করতেন।
ঘটনার দিন আসামিরা ৪/৫ জন অজ্ঞাত আসামিদের নিয়ে বসতঘরের উত্তর পশ্চিমের রুমে হত্যা করে লাশ পুকুরের ঘাটলার নিচে রেখে দেয়। কিছু সময় খোঁজাখুঁজির নাটক করে গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাত ৪টার দিকে পুকুরের ঘাটলার নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার কোনো আলামত না থাকায় তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী দাফনের পূর্বে গোসল করানোর সময় গোসলদাতারা বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুলের মাথায় জখমের চিহ্ন এবং ডান বাহুর পিছনে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়।
এ ব্যাপারে ৪নং দাউদখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার জানান, মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত লোকজনকে বৃদ্ধা সাফিয়া বেগমের মৃত্যু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। মৃত্যুটি স্বাভাবিক নয় বলে মনে করেছেন অনেকেই।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মজিবর রহমান জানান, মামলার বাদী নূর বেগম আমার আপন বোন। কয়েক মাস আগে আমার ওই বোনের ছেলে রাসেল সরদার আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলা রুজু করা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি কাউন্টার মামলা দাঁড় করিয়েছে।