সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
Logo

বরিশালে বহু শিক্ষার্থীর অজান্তেই একাদশে ভর্তির আবেদন

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশাল বিভাগজুড়ে একাদশে ভর্তি-ইচ্ছুক সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অজান্তেই ভর্তির আবেদন করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গ্রামের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষার্থী সংকট কাটাতে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব আবেদনে সংশ্লিষ্ট কলেজকে পছন্দের তালিকায় প্রথমে রাখা হয়েছে। ফলে পছন্দের কলেজে ভর্তির আবেদন করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় একাদশে ভর্তি-ইচ্ছুক প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা অজান্তেই হয়ে যাওয়া ভর্তির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে এসেছেন। নির্ধারিত সময়ে ভর্তির আবেদন করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের নামে আগেই আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনে গ্রামের অখ্যাত কোনো কলেজকে পছন্দের তালিকায় প্রথমে রাখা হয়েছে। ১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর একাদশে ভর্তির আবেদন করার সময় নির্ধারিত ছিল। এ সময়ে আবেদন করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে অনেকেই রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে ছুটে আসছেন। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থীর তুলনায় বরিশাল বিভাগে কলেজের আসন সংখ্যা বেশি। ফলে গ্রামের অনেক কলেজ চাহিদামতো শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। এ কারণে স্কুল ও কলেজ একসঙ্গে পরিচালিত হয়-এমন প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অজান্তে আবেদন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো কলেজ পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করে একটি মোবাইল নম্বরের বিপরীতে একাধিক আবেদন করছে। এ ধরনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে ভোলা জেলার লালমোহন ও চরফ্যাশনে। এরপর রয়েছে পটুয়াখালী জেলা। এছাড়া বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলা থেকেও একই অভিযোগ এসেছে। একটি মোবাইল নম্বরের বিপরীতে একাধিক আবেদন না করার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ভুয়া আবেদন কে করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে অভিযোগ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। লালমোহন থেকে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে আসা আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমি আবেদনের রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে দেখি তা আগেই করা হয়ে গেছে। পরে বোর্ডে ফোন দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসেছি। এখন রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে পুনরায় আবেদন করব।’ এমন জালিয়াতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান তিনি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী আমাদের কাছে আসছে। আমরা তাদের সংকট সমাধান করে দিচ্ছি। এরপর এ অপকর্মে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com