বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
Logo

জুলাই সনদের ‘আপত্তি’ নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা চায় বিএনপি

প্রতিবেদকের নাম / ৩ সময় দৃশ্য
আপডেট: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবিধান সংশোধনে জুলাই সনদে নিজেদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করতে সম্মত বিএনপি। অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিরোধী দলকে আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে চতুর্থ দিনের এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী বা সম্পাদক এবং টকশোতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সভায় সংবিধানের টেকসই সংশোধনীর পক্ষে মত দিয়ে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সংবিধান অসংখ্যবার সংশোধন ও কাটাছেঁড়া হয়েছে। এবার যেন এই সংশোধনী টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হয় এবং কেউ যেন আবারও কাটাছেঁড়া করতে না পারে– তেমন পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিরোধী দলকে আলোচনায় ফিরিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন ইস্যুটি সমাধান করার তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, এবার যেন সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন হয়।
সভা শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আলোচনায় আসেন।’

জুলাই সনদে তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’-সংক্রান্ত প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেটিই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এখন বিরোধী দল জুলাই সনদের কিছু অংশ থেকে সরে আসতে চাইলে বা কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে, আলোচনার ভিত্তিতে সেটিতে সমঝোতা হতে পারে। এ জন্য তো তাদের আলোচনায় আসতে হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, জয়নুল আবেদীন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, নুরুল হক নুর, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন ও মাহমুদুল হক রুবেল।

বৈঠকের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বিষয়ে পরিবর্তনের নানা প্রস্তাব এসেছে।

একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে ভিন্নমত এসেছে বলে জানান সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, এভাবে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া অগণতান্ত্রিক। তবে জুলাই সনদ প্রণয়নকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব করেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকেন, সেটি যত মেয়াদেই হোক। সেই অবস্থান থেকে বিএনপি এখনও সরেনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, বৈঠকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, সে বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় আমরা সেভাবে এগোতে চাই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেবে।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের যত প্রস্তাব
বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে সংবিধান ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার তাগিদ দেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কার্যকর সংশোধনী আনার প্রস্তাব দিয়ে তারা বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে সংবিধান সংশোধনীর আলোচনায় অবশ্যই বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলকে রাখতে হবে।

বৈঠক শেষে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আব্দুল হাই সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও স্থায়ী ভিত্তি দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।

যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, সরকারকে ছাড় দিয়ে হলেও বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় ফেরাতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com