আইরিন রহমান মারজান পটুয়াখালী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে বড় কর্মকর্তা হবে এবং মা-বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে। কিন্তু গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে আগুনে পুড়ে গেছে তার স্বপ্ন। বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় তার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
আইরিন রহমান মারজান বলে, ‘আমার বই-খাতা, চেয়ার-টেবিলসহ সব কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এমনকি আমার জন্মনিবন্ধন ও জামা-কাপড় সব পুড়ে গেছে। এখন আমার কিছুই নেই। আমি এখন ক্যামনে লেখাপড়া করব। নতুন করে বই-খাতা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য আমার মা-বাবার নেই।’ সে বলে, ‘আগুন লাগার সঙ্গে আমরা সবাই ঘর থেকে এক কাপড়ে বের হয়ে এসেছি। চারটি পরিবারের কেউ কিছু নিয়ে বের হতে পারেননি।’ একই অবস্থা হয়েছে পটুয়াখালী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক ছাত্রী লাবনী আক্তারের। লাবনী দিনমজুর সোহাগ সিকদারের মেয়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহাগ সিকদার বলেন, ‘কিচ্ছু নাই আমাগো। নিঃস্ব হয়ে গেছি। আগুন লাগার পর সবাই এক কাপুড়ে নাইম্যা আইছি। অ্যাহন কই যামু, কোথাও যাওনের জায়গাও নাই। পৌরসভা থেইক্যা ৫ হাজার টেকা ও ১০ কেজি কইর্যা চাউল দিছে। অ্যা দিয়া কয় দিন আর চালামু?’
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, চারটি পরিবারের কেউ কিছুই রক্ষা করতে পারেনি। সব পুড়ে গেছে। এই চার পরিবার এখন একেবারে নিঃস্ব।
প্রতিবেশী জামাল হোসেন বলেন, ‘আগুন লাগার পরে সবাই এক কাপড়ে ঘর থেকে নেমে গেছেন। কেউ কিছু ঘর থেকে নিয়ে বের হতে পারেননি। তারা সবাই দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের পাশে সরকার, প্রশাসন, বিত্তবানরা না দাঁড়ালে এসব পরিবারের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’
গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পৌর শহরের দক্ষিণ সবুজবাগ প্যাদা বাড়ি এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় এনামুল হকের দোতলা টিনশেড ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে চারটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারই দিনমজুর। তাদের মধ্যে কেউ রাজমিস্ত্রি, ভ্যানচালক, রিকশাচালক এবং অটোরিকশাচালক।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা রাজিব দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে চারটি বসতঘরই সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদারের ভাষ্য, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। আপাতত প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও একটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা করা হবে।