শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
Logo

শান্তিতে নোবেল ঘোষণার পর আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার মূল ভিত্তির ওপর আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে আইসিসি। একই সঙ্গে এর ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রকে আদালত রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে আইসিসি বলেছে, ‘আদালত একা টিকে থাকতে পারে না। এর ভাগ্য এখন সেই রাষ্ট্রগুলোর ওপরও নির্ভর করছে, যারা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষার বিষয় নয়, বরং আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষার বিষয়।’

যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং গণহত্যার বিচারের লক্ষ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালতের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই বৈরী মনোভাব পোষণ করে আসছে এবং এর আগে এর কৌঁসুলি ও বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

তবে সর্বশেষ পদক্ষেপটির তাৎপর্য অনেক বেশি। কারণ আইসিসিকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য শাস্তির মুখে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর এটি এক নজিরবিহীন আঘাত। যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে এই আদালত প্রতিষ্ঠাকারী ‘রোম সংবিধিতে’ স্বাক্ষর করলেও কখনোই তা অনুসমর্থন করেনি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনোই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে কোনো আমেরিকানের বিচার করার অনুমতি দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমরা এই উচ্ছৃঙ্খল আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করব, তাদের সম্পদ বা অর্থপ্রাপ্তির পথ বন্ধ করে দেব এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অচল করে দেব।’

 

নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের সময়সীমা

মার্কিন অর্থ বিভাগ ছয় মাসের প্রাথমিক ছাড়ের সময়সীমাসহ এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন ও কিছু লেনদেন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

রুবিও জানান, নিষেধাজ্ঞাগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে আদালত এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের সুযোগ পায়। যদি সেই দাবিগুলো পূরণ না হয়, তবে নিষেধাজ্ঞার শর্তে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের কারণে ওয়াশিংটন আইসিসির তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করে আসছে। অবশ্য আইসিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তান সংক্রান্ত তদন্তটিকে তারা এখন ‘কম অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে।

আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামিম খান রয়টার্সকে বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে দুর্বল করা। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস বলেছেন, এই ছয় মাসের সময়কাল আলোচনার সুযোগ করে দেয়। তবে তিনি আরও বলেন, আইসিসি যাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য জোটটির হাতে প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদালতকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা-প্রতিরোধী আইন কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইসিসি বিশ্বনেতা এবং বৈশ্বিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ ৭০ জনেরও বেশি মানুষের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। নেতানিয়াহুর পাশাপাশি হামাসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের জন্যও সংস্থাটি পদক্ষেপ নিয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সুদানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির এবং লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাহার করা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com