শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
Logo

তদবিরে বিপাকে শিক্ষা বোর্ড বরিশালে চাহিদার দ্বিগুণ পরীক্ষাকেন্দ্র

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

রাজনৈতিক তদবিরে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। বিভাগের ছয় জেলায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী কম থাকলেও কেন্দ্র পরিচালনা, তদারকি, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েনসহ নানা খাতে প্রতিবছর অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বোর্ডের তদারকির চাপ।

বোর্ড-সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৭ বছরে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের রাজনৈতিক তদবিরে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রের অনেকগুলোতে পরীক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও ভৌগোলিক দূরত্ব বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে ২১৬টি। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৭০টি, ভোলায় ৩২টি, বরগুনায় ২৪টি, পটুয়াখালীতে ৪২টি, পিরোজপুরে ২৮টি ও ঝালকাঠিতে ২০টি। এত সংখ্যক কেন্দে র বিপরীতে ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে ৮০ হাজার ৪৫৮ জন। অথচ এত সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট বলে জানা গেছে।

বোর্ডে-সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় বিভাগে এত কেন্দে র প্রয়োজন নেই। কোনো কোনো উপজেলায় কেন্দ্রের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি। বরিশালের উজিরপুর উপজেলাতেই রয়েছে ৯টি পরীক্ষাকেন্দ্র। অথচ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ তিনটি কেন্দ্রেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বিভাগের একাধিক কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল একশর নিচে। কোনো কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫৬ জন। উজিরপুরের কারফা পাবলিক একাডেমি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৩ জন। মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে মাত্র ৮৯ জন। একইভাবে ১১১ ও ১১৫ জন পরীক্ষার্থী নিয়েও দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী নিয়ে এসব কেন্দ্র পরিচালনা করতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপও বাড়ছে। বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, একটি কেন্দ্র পরিচালনায় পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন খাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সম্প্রতি আন্তঃবোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় কোন কোন কেন্দ্র বহাল রাখা হবে এবং কোনগুলো বাতিল করা যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে সম্প্রতি বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, ‘আমাদের যে সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেয় তাতে ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট। তারপরও চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র বাতিল করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com