যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনা। ভোটের ফলাফলও আসতে শুরু করেছে। দেশটির কংগ্রেসের দুটি কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট- উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধসের কারণে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
১০০ আসনের সিনেটে এবার দুটি শূন্য আসনসহ ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। দেশটির স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এরই মধ্যে জয় পেয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে সাতটি আসনে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এখন পর্যন্ত কোনো আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সিবিএস নিউজের এক পূর্বাভাস জানিয়েছে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিচ্ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটরা অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হবে এবং রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পাবে।
ভোটের পর সবার মনোযোগ টেক্সাস, মিশিগান ও মেইন- এই তিনটি অঙ্গরাজ্যের দিকে। নির্বাচনে এই তিনটি অঙ্গরাজ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।
টেক্সাস অঙ্গরাজ্য থেকে গত ৩০ বছরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটে যাননি, কিন্তু সাবেক স্কুল শিক্ষক জেমস টালারিকো সেই ইতিহাস বদলাতে চাইছেন। ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে লড়াই মনোযোগ কেড়েছে। যেখানে রোববার শেষ মুহূর্তে এল-সাইদের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারির প্রতিদ্বন্দ্বী রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রাথমিক ভোট গণনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এগিয়ে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত গণনা করা ভোটের হিসাবে তিনি পেয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ ভোট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭২ হাজার ৬৪২টি ভোট গণনা করা হয়েছে। যা মোট ভোটের ২১ দশমিক ৭ শতাংশ। এখনও প্রায় ৩৮ লাখ ৬২ হাজার ভোট গণনা বাকি রয়েছে।
প্রাথমিক ফলে আবদুল এল-সাইয়েদ পেয়েছেন ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭৪৬ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্সের ঝুলিতে রয়েছে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৪ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখিত লিডিয়া ক্রিস্টেনসেন পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৯১ ভোট। নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এল-সাইয়েদকে হারাতে হলে মাইক রজার্সকে বাকি ভোটের অন্তত ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ পেতে হবে।
এছাড়া মেইন অঙ্গরাজ্যের বর্তমান সিনেটর সুসান কলিন্স একজন রিপাবলিকান, যিনি ট্রাম্পকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা এই অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন তিনি, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এসব আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে। ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, এমন নয়।
অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়। আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।