মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ খান সরেজমিন ওই বাড়িতে গিয়ে বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর দেখতে পান।
এ সময় তারা সজীব বেপারী ও তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। সজীব বেপারী নিজে প্রশাসনের কাছে কবর বানানোর কথা স্বীকার করেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতে সজীব নিজেই কবর দুটি ভেঙে ফেলেন।
কী কারণে সজীব কবর দুটি বানিয়েছিলেন তা নিজেই বলতে পারেননি। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী ছয় মাস আগে থেকে জিনের আসরের কথা বলে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। আসরে বসলে তার কাছে প্রতিদিন ৪০-৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ করে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একটি কবর জেগে ওঠে। ২৬ অক্টোবর রাত ১২টায় ওই কবরের পাশে আরেকটি কবর জেগে ওঠে বলে সজীবের পরিবার জানায়। ঘরের মধ্যে জেগে ওঠা কবর দুটি হলো বড়পির আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।
এ ঘটনা এলাকায় জানাজানির পরে উৎসুক লোকজন ওই বাড়িতে জেগে ওঠা কবর দেখার জন্য ভিড় করেন এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বাড়ে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল সাংবাদিকদের বলেন, এ রকম একটি ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। মানুষ যেন প্রতারিত না হয়, তার জন্য সজীব বেপারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে কবর বানানোর কথা স্বীকার করে। তার বানানো কবর সে নিজেই ভেঙে ফেলেছে।