বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ:
নিত্য মৃত্যুর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক একনেকে ঠাঁই হয়নি ছয় লেন প্রকল্পের ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ওএসডি মায়ের কোল থেকে সন্তান নিয়ে উধাও বাবা, সার্চ ওয়ারেন্টে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ভোলা সদর উপজেলা নদীপথে সার পাচারকালে ২৯৮ বস্তা আটক করলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বরিশালে এক যুগ ধরে লোহার খাঁচায় বন্দি শামীম, ছেড়ে গেছে স্ত্রী-সন্তানও ১০০ ছাড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের ভরাডুবির পেছনে ৪ কারণ পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের বিরোধে ৫ জনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১ মঠবাড়িয়া উপজেলার স্ত্রীর প্রতারণায় ৫১ লাখ টাকা খুইয়ে ঢাকায় রিকশা চালান মোস্তফা

ভোলা সদর উপজেলা নদীপথে সার পাচারকালে ২৯৮ বস্তা আটক করলেন বিক্ষুব্ধ কৃষকরা

প্রতিবেদকের নাম / ০ সময় দৃশ্য
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

ভোলা সদর উপজেলা থেকে নদীপথে পাচারচেষ্টার অভিযোগে ২৯৮ বস্তা সরকারি সার আটক করেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা।

 

তাদের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সার না দিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির আশায় ভোলার বাইরে পাচার করা হচ্ছিল। পরে খবর পেয়ে সারগুলো উদ্ধার করে একটি গুদাম সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

তবে এ ঘটনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দুষছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল এলাকা থেকে এসব সার আটক করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতেই সারগুলো গুদামজাত করে সিলগালা করা হয়।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার রাতের আঁধারে একটি নসিমন গাড়িতে করে নিয়ে আগে থেকেই দারোগার খাল এলাকায় নোঙর করে রাখা ট্রলারে এসব সারবোঝাই করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে সারের কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রলারসংশ্লিষ্টরা বৈধ কাগজপত্র না দেখাতে পারলে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা সারগুলো আটক করেন। এর মধ্যে ২৪৮ বস্তা ডিএপি ও ৫০ বস্তা টিএসপি সার রয়েছে।

 

তবে ট্রলারে থাকা লোকজনের দাবি, তারা ভোলার স্থানীয় এক সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

অন্যদিকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, অসাধু সার ডিলাররা সাধারণ কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের সার বিক্রি না করে অতিরিক্ত লাভের আশায় ভোলার বাইরে এসব সার পাঠাচ্ছিলেন।

 

বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, ভোলায় সারের সংকট নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় ভোলার কৃষকরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। ভোলা সদর উপজেলায় সার নিয়ে নৈরাজ্যের সঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকতা সরাসরি জড়িত। যে কৃষকের ৫০ বস্তা সার প্রয়োজন, তার জন্য সরকারি ভর্তুকির সারের অনুমোদন দেন ১০ বস্তা, বাকি ৪০ বস্তা ডিলারের কাছ থেকে কৃষককে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়। এ অতিরিক্ত দামের ভাগ নিশ্চয়ই কৃষি কর্মকর্তা পান। এছাড়া যেসব কৃষক অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনবেন তাকেই ডিলাররা ভর্তুকির ফ্রেশ সার দেন, না হলে দেওয়া হয় নষ্ট সার। আটক ২৯৮ বস্তা সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া কোনো দিনও এখানে আনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সার নিয়ে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান তিনি।

 

তবে কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন জানিয়ে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে সারগুলো ভোলা সদর উপজেলার এবং বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিভিন্ন চরে তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকরা সারগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কোনো কৃষক বা ডিলার অবৈধভাবে কাগজপত্র তৈরি করে সার উত্তোলন করেছেন কিনা, তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এদিকে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটকের পর সারগুলোর বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গোডাউনে রেখে সেটি সিলগালা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটির তদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com